May 14, 2026, 12:23 pm
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

ফিলিপনগরে আশ্রমের আড়ালে প্রতারণা ও বিতর্ক: স্থানীয়দের মধ্যে শঙ্কা

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে মো. শামীম রেজা নামে এক ব্যক্তিকে ঘিরে এলাকায় তীব্র আলোচনা ও সংশয় দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, তিনি ইসলাম ও সনাতন ধর্মের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত আছেন।
অভিযোগের বিবরণ
স্থানীয় সূত্র জানায়, শামীম রেজা বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে তিনি ঢাকার কেরানিগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকার এক পীরের দরবারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিজেকে খলিফা হিসেবে পরিচয় দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করে অর্থ সংগ্রহ করতেন। পরে দরবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর তিনি নিজেকে ‘প্রফেসর’ পরিচয়ে উপস্থাপন শুরু করেন, যদিও কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার শিক্ষকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে তিনি ইসলাম ত্যাগ করে নিজেকে ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ’ হিসেবে দাবি করেন এবং ফিলিপনগরে একটি আলিশান আশ্রম স্থাপন করে সেখানে ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করছেন।
স্থানীয়দের উদ্বেগ
হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ: তার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সনাতন ধর্মের মূল বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মুসলিম সম্প্রদায়ের অভিযোগ: তিনি ইসলাম ও মুসলিম রীতিনীতি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
বিশেষ ঘটনা: এক অনুসারীর মৃত্যুর পর প্রচলিত ইসলামী রীতি অনুসরণ না করে জানাজা ছাড়াই গান-বাজিয়ে দাফন সম্পন্ন করা হয়, যা এলাকায় ধর্মীয় উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
আইনি দিক
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—
ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি ২৯৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য।
ভুয়া পরিচয়ে অর্থ আদায় করা হলে এটি ৪২০ ধারার প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রশাসনের অবস্থান
এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শামীম রেজার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি
ফিলিপনগরের সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, এটি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা দাবি করছেন—
অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে
প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি এই কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তাহলে এলাকার ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।



ফেসবুক কর্নার