March 5, 2026, 11:18 pm
শিরোনাম :

স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে সেনাসদস্যের বাড়িতে চাঁদপুরের যুবতীর অনশন

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক সদস্যের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন আসমা আক্তার (১৯) নামে চাঁদপুরের এক যুবতী। আসমা চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ফতেপুর গ্রামের বিল্লাল খানের মেয়ে। অভিযুক্ত সেনাসদস্য জাহাঙ্গীর আলম (২১) ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শাহা আলীর ছেলে।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে জাহাঙ্গীর আলম সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগদান করেন। চাকরিরত অবস্থায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসমার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একাধিকবার দেখা-সাক্ষাতের পর তারা গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বলে দাবি করেছেন আসমা।
আসমার অভিযোগ, বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়ে ঘরে তোলার দাবি জানান। এ সময় জাহাঙ্গীর তার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। যৌতুক দিতে না পারায় জাহাঙ্গীর বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আসমা কৌশলে জাহাঙ্গীরের গ্রামের ঠিকানা সংগ্রহ করে ২২ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারীতে তার বাড়িতে যান। প্রথমে তাকে থাকতে দেওয়া হলেও তিন দিন পর জাহাঙ্গীরের খালাসহ কয়েকজন আত্মীয় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ৩ মার্চ আসমা ভূরুঙ্গামারী থানায় নির্যাতনের মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরের বাবা শাহা আলী ও মা জাহানারা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে আটক দু’জনকে কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী আসমা আক্তার বলেন, “আমি পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে স্বামীর বাড়িতে এসেছি। প্রথমে আমাকে মেনে নিয়ে থাকতে দিলেও পরে অমানবিক নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হয়। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, আংটি ও পায়ের নূপুর খুলে নেওয়া হয়েছে। মোবাইলে থাকা আমাদের ছবি ও ভিডিও ডিলেট করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।”
ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন মামলা দায়ের ও দুইজনকে আদালতে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত



ফেসবুক কর্নার