March 6, 2026, 1:06 am
শিরোনাম :

বরিশালে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়ন ঘিরে আলোচনায় মির্জা খাদিজা

অভয়নগর প্রতিবেদক

বরিশালে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা খাদিজা বেগমকে নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয়ভাবে এখনো চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা না হলেও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাকে নিয়ে ইতিবাচক মতামত দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাসের কারণে তাকে সংসদে দেখতে আগ্রহী অনেকেই। আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা এবং কারাভোগের মধ্য দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা গড়ে উঠেছে বলে জানান দলীয় নেতাকর্মীরা। মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতি এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে বলেও মনে করেন অনেকে।
এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়ন নিয়ে বরিশালজুড়ে আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। জেলার একাধিক নারী নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন, কেউ কেউ ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। ফলে ত্যাগী রাজপথের নেত্রী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিক—সবাই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আলোচনায় রয়েছেন বরিশাল জেলা বিএনপি মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মির্জা খাদিজা বেগম। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে তিনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মির্জা খাদিজা বেগম বর্তমানে বরিশাল জেলা বিএনপি মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এছাড়া তিনি বাকেরগঞ্জ থানা মহিলা দলের সভানেত্রী এবং বাকেরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের কারণে তিনি তৃণমূলের কাছেও পরিচিত মুখ।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখিও হয়েছেন মির্জা খাদিজা বেগম। তিনি জানান, ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলেও তার সেই বিজয়ের ফলাফল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে ঢাকার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ঢাকায় তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। একই সঙ্গে বরিশালেও একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্নভাবে ক্ষতি করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা একাধিকবার তার বাসভবনে হামলা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবারও এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি বলে দাবি করেন তিনি। তার সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছেলেকে অবৈধভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তিনি চাকরি হারান বলেও জানা যায়।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাভোগ এবং সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মনোনয়নের ক্ষেত্রে মির্জা খাদিজা বেগম একজন শক্তিশালী দাবিদার। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে তার মনোনয়নের বিষয়টি।



ফেসবুক কর্নার