March 5, 2026, 11:21 pm
শিরোনাম :

লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠান, নেই বিএসটিআই অনুমোদন—‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ কি ভোক্তা প্রতারণার বড় জাল বিস্তার করেছে?

অভয়নগর প্রতিবেদক

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের লীলার মেলা বাজারে অবস্থিত ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’কে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির পণ্যে বিএসটিআই অনুমোদনের অভাব ও মালিকপক্ষের অসহযোগিতার বিষয় উঠে এলেও, সর্বশেষ অনুসন্ধানে আরও বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে। অভিযোগ উঠেছে—প্রতিষ্ঠানটির বৈধ লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদন কিংবা খাদ্য উৎপাদনের প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চিজ ও ঘি উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, এভাবে অনুমোদনবিহীন খাদ্যপণ্য বাজারজাত করা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং সরাসরি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।
লাইসেন্স নেই, অনুমোদন নেই—তবু চলছে ব্যবসা
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব লেবেল ও স্টিকার লাগিয়ে চিজ ও ঘি বাজারে সরবরাহ করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র খতিয়ে দেখলে দেখা যায়—প্রতিষ্ঠানটির নামে কোনো বৈধ খাদ্য উৎপাদন লাইসেন্স, বিএসটিআই সনদ কিংবা মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার সনদের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, প্যাকেটজাত দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করাও আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে—এসব নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বৈধতা ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
তাদের মতে, প্যাকেটজাত পণ্যের লেবেলে নির্ভর করে সাধারণ মানুষ পণ্য কিনে থাকেন। কিন্তু যদি সেই পণ্যের পেছনে কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকে, তবে তা ভোক্তার জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়া এভাবে পণ্য বিক্রি করা মানে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা। আইন থাকলেও তা মানার কোনো প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না।”
স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তাপমাত্রা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরীক্ষাগার যাচাই ছাড়া এসব পণ্য উৎপাদিত হলে তা সহজেই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, ‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’-এর উৎপাদন প্রক্রিয়া ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার কোনো সরকারি তদারকির প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিককে ভয়ভীতি—কিসের আড়াল?
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক।
জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার বার্তা বিভাগ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ প্রকাশ করলে “ফল ভালো হবে না” বলে হুমকিমূলক মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে স্বচ্ছভাবে তথ্য ও কাগজপত্র উপস্থাপন করাই স্বাভাবিক আচরণ। কিন্তু প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হলে তা সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
এত গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
প্রশ্ন উঠছে—
কেন এখনো প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স যাচাই করা হয়নি?
বিএসটিআই বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কি কোনো তদন্ত শুরু করেছে?
অনুমোদনবিহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেরি হচ্ছে কেন?
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা যাচাই করতে হবে এবং অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এখন দেখার বিষয়
‘রাফিয়া চিজ পয়েন্ট’ প্রকৃতপক্ষে বৈধ অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে, নাকি লাইসেন্স ও সনদ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রি করে আসছে—তা নিরপেক্ষ তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—
খাদ্যপণ্যের মতো সংবেদনশীল খাতে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে, তবে তা শুধু আইন লঙ্ঘনই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি।
উল্লেখ্য, উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে এবং অভিযোগসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার বার্তা বিভাগে সংরক্ষিত আছে।



ফেসবুক কর্নার