
খুলনার কয়রা উপজেলায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে অজুহাত দেখিয়ে জ্বালানি তেল ও এলপিজি গ্যাসে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা তেল বিক্রেতারা সরবরাহ কম থাকার অজুহাত দেখিয়ে গ্রাহকদের সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছেন। অধিকাংশ দোকানে এক থেকে দুই লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না, অথচ প্রতি লিটারে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অনেক দোকানে তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল দেওয়া হচ্ছে না। বরং যারা বেশি দাম দিতে রাজি, তাদের কাছে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট দেখাতে দোকান বন্ধ রাখছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, কৃষিকাজে সেচ মেশিন চালাতে ডিজেল অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু বর্তমানে তেল কম পাওয়া যাচ্ছে এবং আগের তুলনায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
এছাড়া এলপিজি গ্যাসের ক্ষেত্রেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক গ্যাস ব্যবসায়ী বলে দিচ্ছেন দোকানে সিলিন্ডার নেই, অথচ পরিচিত বা নির্দিষ্ট ক্রেতাদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, বাজার তদারকি জোরদার না হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তারা প্রশাসনের দ্রুত নজরদারি বাড়িয়ে বাজার স্থিতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন।