
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নে একটি গ্রামীণ রাস্তা পাকাকরণ কাজে অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হওয়ার আগেই নবনির্মিত গাইড ওয়াল হেলে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের সময় একটি স্কুল প্রাঙ্গণের পুরনো গাছ টেন্ডার ছাড়াই কেটে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (GDDRIDP) এর আওতায় গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঠুটাপাখুরি–কাজিরহাট দাতারাম পাড়া মধু পাড়া ভায়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ১ হাজার ৩৮৬ টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কনস্ট্রাকশন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাজ শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার ধারে নির্মিত গাইড ওয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই কোটি টাকার এই প্রকল্পে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী জানান, “কাজ শেষ হওয়ার আগেই যদি গাইড ওয়াল ধসে পড়ে, তাহলে রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ থেকে যায়।”
এছাড়া রাস্তা নির্মাণের সময় স্থানীয় একটি স্কুল প্রাঙ্গণে থাকা বহু বছরের পুরনো দুটি গাছ কোনো ধরনের টেন্ডার বা সরকারি অনুমতি ছাড়াই কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে এভাবে গাছ কাটা অনিয়মের শামিল।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তদারকির দায়িত্বে থাকা রবি জানান, গাইড ওয়ালটি টেকসই হবে না বলে মিস্ত্রি আগেই সতর্ক করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিস্ত্রি জানিয়েছিলেন গাইড ওয়ালটি স্থায়ী হবে না, কিন্তু পরে মাটি ফেলে কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কনস্ট্রাকশনের ইউসুফ আলী বলেন, “ওই অংশে রাস্তা করা সম্ভব হবে না বলে আমরা অফিসকে জানিয়েছি। প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ মিটার অংশ পুকুরের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ, তাই বিকল্পভাবে অন্য পাশ দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে এলজিইডির সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, বর্ষা মৌসুমে নকশা প্রণয়ন করায় পুকুরের গভীরতা সঠিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, “রাস্তার পাশে পুকুর খনন করা হলেও তখন কেউ বিষয়টি নিয়ে কথা বলে না। কিন্তু রাস্তার কাজ শুরু হলেই সব দোষ ধরা হয়।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে ওই প্রায় ৫০ ফুট অংশের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে আপাতত আর কোনো কাজ করা হবে না।