
সবুজ পাহাড় ও ঘন অরণ্যের মধ্যে খাগড়াছড়ি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সুপরিচিত, ঠিক তেমনি এখানকার মানবজীবনের অন্ধকার বাস্তবতাও কম নয়। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে—পাহাড়ে কি সবার জন্য আইন সমান?
গত ৩ মার্চ সকালে গুইমারা উপজেলার ২নং হাফছড়ি ইউনিয়নের হাফছড়ি পাড়ার ২১ বছর বয়সী বাকপ্রতিবন্ধী মার্মা তরুণী উনিংকার মার্মা জালিয়াপাড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের উৎকণ্ঠা এবং এলাকাবাসীর খোঁজাখুঁজি সবকিছু মিলিয়ে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সাত দিন পর, ৯ মার্চ সকালে ভিকটিমকে রহস্যজনকভাবে জালিয়াপাড়া এলাকায় ফেলে রাখা হয়। উদ্ধার হওয়ার পর স্থানীয় মানিকছড়ি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে উন্নত পরীক্ষা ও ডিএনএ টেস্টের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
স্থানীয়রা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অংকজায় মার্মা (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি মহালছড়ি উপজেলার তিন্দুক পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতার ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মূল পরিকল্পনাকারী ক্যজ মার্মা (৫০) ইতিমধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে গেছে।
কিন্তু ঘটনার পর শুরু হয় বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে—গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে সরাসরি আইনের হাতে না দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আঞ্চলিক প্রভাবশালী মহল পুরো ঘটনাকে “সামাজিক সমঝোতা”র মাধ্যমে মীমাংসা করার চেষ্টা করছে। ভিকটিমের পরিবারকে আইনি পথে না যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।