July 17, 2026, 11:27 pm
শিরোনাম :
কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বাড়ছে, ১৬টি স্পিলওয়ে গেট খোলার প্রস্তুতি আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়–প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর হাকিমপুরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ উপলক্ষে পথসভা মহেশপুরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে গৃহবধূ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যা, নারী গ্রেপ্তার দোহাজারীতে ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস, পরে হুড়োহুড়িতে আহত ১০ দেশে গাড়ি উৎপাদন শুরু হলেই কি দাম কমবে? বাস্তবতা যা বলছে হাজারীবাগে জুতার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট গ্রেপ্তার, নগদ অর্থ ও সরঞ্জাম জব্দ

গণপূর্তে দুর্নীতির গডফাদার আবু সুফিয়ান উন্মোচিত টেন্ডার কারসাজি ও বদলি বাণিজ্যের জাল

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক—
ঢাকা গণপূর্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ইএম) বিভাগ–৫-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সুফিয়ান আজ প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে শুরু করে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট ও ঘুষের মাধ্যমে পুরো গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন— কোনো প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার অনুমতি বা বদলি আদেশ তার সম্মতি ছাড়া কার্যকর হয় না। প্রতিটি বড় কাজের ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়মিতভাবে তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তার দপ্তর ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অঘোষিত ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’, যা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ধ্বংস করে দিয়েছে।
প্রকল্পে অনিয়ম, জামানত ফেরত ও অর্থ আত্মসাৎ,তেজগাঁও সরকারি কর্মকর্তা আবাসন প্রকল্পে আবু সুফিয়ানের নাম উঠে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে। সরকারি বিধান অমান্য করে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঠিকাদারকে জামানত ফেরত দিয়েছেন, যা সরাসরি আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। ওই প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলোর ইলেকট্রিক ফিটিংস ও সিকিউরিটি লাইট মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়েছে, অথচ একই সরঞ্জামের নামে নতুন বিল তোলা হয়েছে। একইভাবে তেজগাঁও ভূমি ভবন প্রকল্পেও অতিরিক্ত ৩০% বাজেট ব্যয়ের যৌক্তিকতা না দেখিয়ে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও প্রশাসনের রাজনৈতিক নীরবতা ও সুফিয়ানের প্রভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক আশ্রয়ে দুর্নীতির পাহাড়,রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে আবু সুফিয়ান গত দশ বছরে অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার নামে ও আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানাধীন তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও একটি ব্যক্তিগত ভবন রয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হতে পারেন? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ইউনিটের উচিত দ্রুত তদন্ত শুরু করে এ প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদ ও প্রশাসনিক দুর্নীতি উন্মোচন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবু সুফিয়ান শুধু একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নন, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত এক ভয়ংকর ‘দুর্নীতি নেটওয়ার্ক’-এর নিয়ন্ত্রক, যাকে বিচারের আওতায় না আনলে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান কখনোই সফল হবে না।



ফেসবুক কর্নার