June 25, 2026, 4:18 am
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ এমনভাবে দৌড়াও, যেন আজই তোমার জীবনের শেষ দিন’—নেইমারকে বাবার বার্তা সাংবাদিককে মারধর, জামায়াতের ৪ কর্মী বহিষ্কার সংগীত জীবনের ৩৩ বছর পূর্তিতে সুইডেনে বালাম বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার, লাল গালিচা সংবর্ধনা সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা গোপালগঞ্জে লোডশেডিং নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর জেলের ছদ্মবেশে অভিযান, নবীনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার রোগীদের ট্রলি সংকট, বালুর বস্তা বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে হাসপাতালের ট্রলি খাল খননে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের প্রত্যাশা: আমডালায় দুই মন্ত্রীর প্রকল্প পরিদর্শন

গণপূর্তে দুর্নীতির গডফাদার আবু সুফিয়ান উন্মোচিত টেন্ডার কারসাজি ও বদলি বাণিজ্যের জাল

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক—
ঢাকা গণপূর্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ইএম) বিভাগ–৫-এর সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবু সুফিয়ান আজ প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে শুরু করে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি সিন্ডিকেট ও ঘুষের মাধ্যমে পুরো গণপূর্ত অধিদপ্তরকে জিম্মি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন— কোনো প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার অনুমতি বা বদলি আদেশ তার সম্মতি ছাড়া কার্যকর হয় না। প্রতিটি বড় কাজের ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নিয়মিতভাবে তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তার দপ্তর ঘিরে গড়ে উঠেছে এক অঘোষিত ‘দুর্নীতির সাম্রাজ্য’, যা প্রশাসনের স্বচ্ছতা ধ্বংস করে দিয়েছে।
প্রকল্পে অনিয়ম, জামানত ফেরত ও অর্থ আত্মসাৎ,তেজগাঁও সরকারি কর্মকর্তা আবাসন প্রকল্পে আবু সুফিয়ানের নাম উঠে এসেছে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে। সরকারি বিধান অমান্য করে তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই ঠিকাদারকে জামানত ফেরত দিয়েছেন, যা সরাসরি আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। ওই প্রকল্পের ফ্ল্যাটগুলোর ইলেকট্রিক ফিটিংস ও সিকিউরিটি লাইট মাত্র দুই মাসের মধ্যেই নষ্ট হয়ে পড়েছে, অথচ একই সরঞ্জামের নামে নতুন বিল তোলা হয়েছে। একইভাবে তেজগাঁও ভূমি ভবন প্রকল্পেও অতিরিক্ত ৩০% বাজেট ব্যয়ের যৌক্তিকতা না দেখিয়ে ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সরকারি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এই অনিয়মের প্রমাণ থাকলেও প্রশাসনের রাজনৈতিক নীরবতা ও সুফিয়ানের প্রভাবের কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
রাজনৈতিক আশ্রয়ে দুর্নীতির পাহাড়,রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে আবু সুফিয়ান গত দশ বছরে অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তার নামে ও আত্মীয়দের নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার কোনো বৈধ উৎস নেই। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার মালিকানাধীন তিনটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও একটি ব্যক্তিগত ভবন রয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন— একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এত বিপুল সম্পদের মালিক হতে পারেন? দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও অর্থনৈতিক গোয়েন্দা ইউনিটের উচিত দ্রুত তদন্ত শুরু করে এ প্রকৌশলীর অবৈধ সম্পদ ও প্রশাসনিক দুর্নীতি উন্মোচন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবু সুফিয়ান শুধু একজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা নন, বরং গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে প্রতিষ্ঠিত এক ভয়ংকর ‘দুর্নীতি নেটওয়ার্ক’-এর নিয়ন্ত্রক, যাকে বিচারের আওতায় না আনলে প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযান কখনোই সফল হবে না।



ফেসবুক কর্নার