
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকায় অবাধে বন উজাড় ও মূল্যবান গর্জন গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনবিভাগের ইয়াংছা বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের ছত্রছায়ায় ও প্রত্যক্ষ মদদে এই গাছ নিধনের ঘটনা ঘটছে। কাঠ পাচারকারীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে গাছ কাটার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ফাঁসিয়াখালী এলাকা থেকে বড় আকারের কয়েকটি গর্জন গাছ কাটা হয়। ডুলহাজারার চিহ্নিত ব্যবসায়ী সোনা মিয়া মেম্বার ও বদর সওদাগর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গাছ কাটার সময় এলাকাবাসী বাধা দিতে গেলে তারা দাবি করেন, বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই কাজ করছেন এবং এতে কেউ বাধা দিতে পারবে না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইয়াংছা বিট কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া জানান। গর্জন গাছ কাটার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “জায়গা কি আমার বাবার?” এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন আচরণে জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ফাঁসিয়াখালী এলাকায় মূল্যবান গর্জনসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ সম্পদ কেটে পাচার করা হচ্ছে। বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় বনের অস্তিত্বই এখন হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।