March 13, 2026, 3:37 pm
শিরোনাম :
নোয়াখালীতে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ বাগেরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: বর–কনেসহ ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন নবীনগরে ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন নাটোরে ট্রাকের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত, আহত ৩ সৌদি আরবের সহায়তার খেজুর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সদর ইউএনওর বিরুদ্ধে কালীগঞ্জে ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক নাটোরে সাবেক পৌর মেয়র আল মামুনের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৬ মসজিদে ৬ লাখ টাকা অনুদান লক্ষ্মীপুরে গার্মেন্টস দোকানে চুরি, নগদ ৩ লাখ ৬৫ হাজারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি শুল্ক বৈষম্যে বেনাপোল বিমুখ আমদানিকারকরা, ভোমরা বন্দরে বাড়ছে পণ্য খালাস ঝিনাইদহে মাঠ থেকে মিষ্টি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শুল্ক বৈষম্যে বেনাপোল বিমুখ আমদানিকারকরা, ভোমরা বন্দরে বাড়ছে পণ্য খালাস

অভয়নগর প্রতিবেদক
Oplus_16908288

পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশি ফলের চাহিদা বাড়লেও শুল্ক জটিলতা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে যশোরের বেনাপোল বন্দর এড়িয়ে অনেক আমদানিকারক সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহার করছেন। এতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের আমদানি কার্যক্রম ও রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন, ভোমরা বন্দরের তুলনায় বেনাপোল বন্দরে শুল্ক আদায়ে স্লাব পদ্ধতি ও বিভিন্ন জটিলতার কারণে প্রতি ফলবাহী ট্রাকে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব দিতে হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী তুলনামূলক কম ব্যয়ের কারণে ভোমরা বন্দরের দিকে ঝুঁকছেন।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ফল আমদানিকারক প্রতিনিধি জাবেদ হোসেন বলেন, “ভোমরা বন্দরে একটি ট্রাকে যে পরিমাণ রাজস্ব দিতে হয়, বেনাপোলে তার চেয়ে দুই থেকে তিন লাখ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক আমদানিকারক বাধ্য হয়ে ভোমরা বন্দরে পণ্য খালাস করছেন। শুল্ক ব্যবস্থায় সমতা আনা হলে আবারও ব্যবসায়ীরা বেনাপোলমুখী হবেন।”
এদিকে বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন অভিযোগ করেন, ভোমরা বন্দরে পণ্যের ওজনে কিছু সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বেনাপোলে নিট ওজন পরেও অতিরিক্ত ওজন যুক্ত করায় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৩০৮ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে, যেখানে একই দিনে ভোমরা বন্দরে আমদানি হয়েছে ৩২২ ট্রাক পণ্য। এতে বর্তমান বাণিজ্যিক প্রবণতার পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বেনাপোল আমদানি–রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিকভাবেই বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করতে চান। তবে শুল্ক কাঠামো ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা না গেলে আমদানি বাণিজ্য আরও কমে যেতে পারে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুল্ক ব্যবস্থায় সমতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আবারও বেনাপোল বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে পারে।



ফেসবুক কর্নার