March 16, 2026, 5:49 pm
শিরোনাম :
লামায় বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ: অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচল ৪ মাসের শিশু আব্দুর রহমান সানী ঢাকা–১৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ এনসিপির গণভোটের দাবি অবান্তর, জবাব দেওয়া হবে সংসদে: আইনমন্ত্রী রৌমারীতে ভিজিএফের চাল বিতর সয়াবিন তেলের দামে অসঙ্গতি, অসন্তুষ্ট ক্রেতা ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ চিকিৎসক রাফসানের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ খুলনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা রাশু নিহত তেঁতুলিয়ায় চেয়ারম্যানকে হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে এসএম ওবায়দুল হক নাসির নিয়োগ বেনাপোলে ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি ধরা, যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেলের বিরুদ্ধে অতঃপর যা জানা গেল

ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ চিকিৎসক রাফসানের বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্কের জন্য বাধ্য করা, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল এবং পরে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. মো. রাফসান জানি (৩১)। তিনি যশোর জেলার সদর উপজেলার শুকুরলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরী সামিয়া আফরোজ (১৭) লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার রমনীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. সাজেদুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পাওয়ার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন এবং ১০ লাখ টাকার প্রলোভনসহ প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে লেখাপড়া করানো ও নিজের সন্তানদের দেখাশোনার কথা বলে ডা. রাফসান জানি তার শ্যালিকা সামিয়াকে যশোরে নিয়ে আসেন। সেখানে থাকার সময় জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। বিষয়টি কাউকে জানালে তার বোন ও ভাগনে-ভাগনিদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মণিরামপুরের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তাকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন অভিযুক্ত চিকিৎসক। পরবর্তীতে বাড়িওয়ালা বিষয়টি জানতে পেরে তাদের বাসা ছাড়তে বললে অন্য একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করেন। ওই বাসায় থাকার সময় বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে তাকে আটকে রাখা হতো যাতে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন বলেও অভিযোগ করেন সামিয়া।
সামিয়ার জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ২ মাস। তিনি অভিযোগ করেন, বিসিএস উত্তীর্ণ হওয়ার পর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডা. রাফসান তাকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ঘটনা জানাজানি হলে অভিযুক্তের পরিবার ও সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে এবং ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেয়। রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, বিষয়টি কয়েকজন সাংবাদিককে জানালে উল্টো তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তিনি স্ট্যাম্প ফেরত এবং অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ভুক্তভোগী একটি অনলাইন জিডি করার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল মণিরামপুর হওয়ায় তা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফয়েজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, ভুক্তভোগী নাবালিকা হওয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগ পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
জানা গেছে, গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী নিজ বাসা থেকে পালিয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরদিন ১৫ মার্চ মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে ভুক্তভোগী নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি জীবনের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে প্রশাসন ও মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতা কামনা করেছেন।



ফেসবুক কর্নার