March 19, 2026, 9:15 am

লামায় কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সম্পদ ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন

রাসেল লামা বান্দরবান

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের গড়ে তোলা বিশাল অবকাঠামো ও সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংস্থাটির জমি অধিগ্রহণ, অর্থের উৎস এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বিপুল আয়তনের জমি নিয়ে বিতর্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরই ইউনিয়নে প্রায় ২,৫০০ একর জায়গা জুড়ে ‘কোয়ান্টাম’ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছে সংস্থাটি। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক সহায়তায় পাহাড়ি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কাছ থেকে কম মূল্যে বা চাপ প্রয়োগ করে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পরিবেশগত উদ্বেগ
পাহাড় কাটার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তর অতীতে সংস্থাটিকে জরিমানা করেছে বলে জানা গেছে। পরিবেশবাদীদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সংস্থাটি তাদের কার্যক্রমকে উন্নয়ন ও সেবামূলক বলে দাবি করে।
অর্থের উৎস ও ব্যয়ের প্রশ্ন
সম্প্রতি একটি বিলাসবহুল ধ্যানকেন্দ্র নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, স্বল্প সময়ে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে, যা নিয়ে দাতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু মতামত ও বক্তব্যের পর সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে।
সরকারি অবস্থান
বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সংস্থাটির সঙ্গে কিছু শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সাবেক কিছু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যেও নানা অভিযোগ উঠে এসেছে।
সংস্থার অবস্থান
কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বরাবরই দাবি করে আসছে, তারা শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে, বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।



ফেসবুক কর্নার