
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় কুখ্যাত ডাকাত ইয়ার আলী ও তার সহযোগী উজ্জ্বলকে অস্ত্র, গুলি ও মাদকসহ গ্রেপ্তারের পরদিন বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চৌধুরীআটি গ্রামের একটি বাগানে দুটি বোমা সদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বস্তু দুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
স্থানীয়দের ধারণা, ইয়ার আলী গ্রেপ্তারের পর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার সহযোগীরাই এসব বস্তু রেখে গেছে।
এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় র্যাব-৬ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে শংকরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ইয়ার আলী ও তার সহযোগী উজ্জ্বলকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, দুটি ওয়াকি-টকি ও ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ইয়ার আলী একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কে এম মোশারফ হোসেন হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি। তার ভাই বাহার আলীসহ এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, হত্যা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের দৌরাত্ম্যে এলাকার ঘের মালিক ও ব্যবসায়ীরা নিয়মিত চাঁদা দিতে বাধ্য হন। তাদের ভয়ে অনেকে এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন।
এদিকে, ইয়ার আলী গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও তার সহযোগীরা এখনো পলাতক থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কৃষ্ণনগর এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।