
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে স্থানীয় তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ছে এবং এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লায় গোপনে মাদক ব্যবসা চলার পাশাপাশি স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার প্রসার দ্রুত বাড়ছে। সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও এতে জড়িয়ে পড়ছে। জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে অনেকেই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, ফলে পরিবারগুলো সামাজিক ও আর্থিক সংকটে পড়ছে।
রামপাল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক শাহজালাল গাজী বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়া সমাজ ধ্বংসের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হুমকির মুখে পড়বে।
যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাগর আহমেদ বলেন, এটি এখন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারে তরুণরা দ্রুত বিপথে যাচ্ছে।
প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব আরিফ হাসান গজনবী বলেন, তরুণ সমাজকে রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে নিয়মিত ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি মোবাইলভিত্তিক অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক বন্ধে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা সম্ভব নয়। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একটি প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।