
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত সেনা সদস্যদের প্রত্যাহার করায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। উপজেলার পাউখালী টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্প থেকে রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে সেনা সদস্যরা যশোর সেনানিবাসের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
জানা গেছে, যশোর সেনানিবাসের ৩৭ বীর ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প অধিনায়ক ক্যাপ্টেন সাজিদের নেতৃত্বে ৫৪ জন সেনা সদস্য ওই ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেনা প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, সেনা সদস্যদের অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছেন তারা। একই সঙ্গে পুলিশের সীমিত সক্ষমতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার বিষয়টিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সেনা উপস্থিতিতেও কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী এলাকায় অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। সম্প্রতি ওই চক্রের কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও অন্যরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। ফলে সেনা প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুলিশের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানো গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকদের অনেকেই কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।