
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) আবারও সমালোচনার মুখে পড়েছে। রোগীর পায়ে ট্রলির চাকা তুলে দেওয়ার মতো অবহেলার প্রতিবাদ করায় রোগীর ছেলেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্টাফদের বিরুদ্ধে।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের নতুন মেডিসিন ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে সাগর (২৫) নামে এক যুবক আহত হন।
আহত সাগর জানান, তিনি তার ক্যান্সারে আক্রান্ত মা লাকি বেগমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত স্টাফ রাসেল ও রিবু ট্রলি নিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার মায়ের পায়ের ওপর চাকা তুলে দেন। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্টাফরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।
সাগর বলেন, “মুমূর্ষু মাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসার আশায়। সেখানে উল্টো মারধরের শিকার হতে হলো—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
ঘটনার পর তিনি হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত স্টাফ রাসেল ও রিবু দাবি করেছেন, ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল। তাদের ভাষ্য, ভুলবশত রোগীর পায়ে ট্রলির চাকা উঠে যায় এবং তারা দুঃখ প্রকাশও করেন। তবে তাদের অভিযোগ, সাগর উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ করলে পরিস্থিতি হাতাহাতিতে গড়ায়।
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহল বলছে, যেখানে রোগীদের নিরাপত্তা ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করার কথা, সেখানে এ ধরনের অবহেলা ও সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।