
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিক্রয় কেন্দ্রের কাছ থেকে ২৯ বস্তা সরকারি চাল জব্দের ঘটনায় ৯ দিন পার হলেও এখনো নিয়মিত মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের বরাটি বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হাবিবুর রহমান খান কার্ডধারীদের মাঝে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করছিলেন। গত ১ এপ্রিল রাতে বিক্রয় কেন্দ্রের মাত্র ১০ গজ দূরে একটি ঘরে ২৯ বস্তা সরকারি চাল মজুদ রাখা অবস্থায় প্রশাসনের নজরে আসে। পরে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চালগুলো জব্দ করেন।
জব্দের পর চালগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধির জিম্মায় গ্রাম পুলিশের পাহারায় বাজার এলাকায় রাখা হয়। তবে ঘটনার পর নিয়মিত মামলা দায়েরের কথা বলা হলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চক্রটি বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
চাল মজুদকারী ওয়াহাব দাবি করেন, তিনি ডিলারের কাছ থেকে কার্ডধারীদের মাধ্যমে আসা চাল কিনে মজুদ করেছিলেন।
নায়েকপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার জানান, আগে মামলা করার সিদ্ধান্ত থাকলেও এখন জব্দ চালগুলো গরিব ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি জব্দের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী জানান, জব্দকৃত চালগুলো অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে মামলা না হওয়ায় পুরো ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে—আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু বিতরণ করেই কি দায় শেষ হবে?