May 1, 2026, 12:19 pm
শিরোনাম :
কালিগঞ্জে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের মহান মে দিবস পালিত নাটোরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত পঞ্চগড়ে বিশেষ অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক কালীগঞ্জে দলিল লেখকদের অভিযোগ: ‘কল্যাণ ফান্ডের’ নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা কুষ্টিয়ায় বিষাদের ছায়া: বন্ধ হলো ঐতিহ্যবাহী এমআরএস ইন্ডাস্ট্রিজ, কর্মহীন ৬০০ শ্রমিক!! শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে মোরেলগঞ্জে শ্রমিক সমাবেশ মহান মে দিবসে লক্ষ্মীপুরে শ্রমিকদের বর্ণাঢ্য র‍্যালি ১৯৭১-এর রৌমারী ও একটি রেডিওর ইতিহাস: স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো দুধকুমর নদের ভাঙন রোধে ভূরুঙ্গামারীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: ‘জনপ্রিয় নয়, নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত’

১৯৭১-এর রৌমারী ও একটি রেডিওর ইতিহাস: স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
Oplus_131072

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে আজ বিশ্ব হাতের মুঠোয়। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের যুগে তথ্যপ্রাপ্তি সহজ হলেও একসময় এই তথ্যের একমাত্র ভরসা ছিল একটি ছোট যন্ত্র—রেডিও। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দুবলাবাড়ী গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা হাশেম আলীর স্মৃতিতে এখনো ভাসে সেই সত্তরের দশক, বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলো।
হাশেম আলী জানান, সে সময় তাদের কাছে একটি ‘ফাইভ এম’ রেডিও ছিল, যা পুরো গ্রামের মানুষের জন্য ছিল খবরের প্রধান উৎস। বিশেষ করে বিবিসি বাংলার সংবাদ শোনার জন্য মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত। তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় রেডিওই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিটি খবর শুনে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম আর উদ্দীপনা জেগে উঠত।”
সে সময় একটি রেডিওকে ঘিরেই গড়ে উঠত সামাজিক বন্ধন। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে খবর ও অনুষ্ঠান শুনত। বিনোদনের জন্যও রেডিও ছিল একমাত্র মাধ্যম—গান, নাটক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করত সবাই একসাথে। সেই সম্মিলিত আনন্দ আজকের একক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে অনেকটাই হারিয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
আলোচনার এক পর্যায়ে হাশেম আলী তুলে ধরেন রৌমারীর মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকার কথা। তার ভাষ্যমতে, ১৯৭১ সালে রৌমারী ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুক্তাঞ্চল, যা পাকবাহিনীর দখলে যায়নি। এখান থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। তিনি দাবি করেন, এই ঐতিহাসিক ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি এখনো পুরোপুরি মেলেনি। রৌমারীকে সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ‘মুক্তাঞ্চল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উন্নয়নে রেডিওর ব্যবহার অনেকটাই কমে গেলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হাশেম আলীর মতো প্রবীণদের স্মৃতিচারণে উঠে আসে সেই সময়ের বাস্তবতা, সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের চিত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে এমন ব্যক্তিগত স্মৃতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পাশাপাশি অতীতের এই গৌরবগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবি।



ফেসবুক কর্নার