
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দীর্ঘদিনেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ না হওয়ায় জনজীবন ও সম্পদ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এ উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবা না পাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে জানা গেছে, দৌলতপুর মৌজার হাকিমপুর চুয়া মল্লিকপাড়া এলাকায় প্রায় ০.৮২ একর জমি ফায়ার স্টেশন নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রকল্প হিসেবে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টানানো থাকলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত এই উপজেলায় প্রায়ই হাট-বাজার, বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কিন্তু নিজস্ব ফায়ার স্টেশন না থাকায় পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে ফায়ার সার্ভিস আসতে দেরি হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
বিশেষ করে দৌলতপুরে পান চাষ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। আগুন লাগলে মুহূর্তের মধ্যে পানের বরজ পুড়ে যায়, এতে চাষিদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। একাধিক ঘটনায় বছরের পর বছর পরিশ্রমের ফসল ধ্বংস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের জন্য আবেদন জানানো হলেও বাস্তব অগ্রগতি নেই। জমি নির্ধারণের পর আশা জাগলেও কাজ শুরু না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে।
সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে দৌলতপুরবাসীর জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।