
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও রায়পুর উপজেলায় সরকারি ভাতা ও ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত চক্রের মূলহোতা তাহমিনা আক্তার লিমা নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাহমিনা আক্তার লিমা বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজেকে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি দাবি করতেন, তার মাধ্যমে সহজেই সরকারি ঘর, শিশু ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়া যাবে।
তার কথায় বিশ্বাস করে সাধারণ মানুষ শিশু ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, বয়স্ক ভাতার জন্য ৪ হাজার টাকা, মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য ৫ হাজার টাকা এবং টয়লেট নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা করে জমা দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সাত থেকে আট মাস পার হয়ে গেলেও কেউ কোনো সহায়তা পাননি। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত লিমা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
ভুক্তভোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা বলে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে বিপুল টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন আমরা আমাদের কষ্টের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আইনের আশ্রয় নিয়েছি।”
এ ঘটনায় রামগতি উপজেলার পূর্ব চর সীতা গ্রামের বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক। তারা এ ঘটনায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযুক্ত তাহমিনা আক্তার লিমার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তিনিও অন্য একটি পক্ষের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে অভিযুক্ত পলাতক থাকায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে।