May 12, 2026, 11:27 am
শিরোনাম :
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সড়ক দখল করে বাস-ট্রাক পার্কিং, বাড়ছে জনদুর্ভোগ রাস্তার মাঝখানে গাছ, দুর্ভোগে দুর্গাপুরের কয়েকটি পরিবার সড়কে ধানের নারা-কুড়া শুকানোয় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কচাকাটা থানাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে ত্রাণমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি সময়ানুবর্তিতা ও আত্মশৃঙ্খলা গঠনে ভূরুঙ্গামারী মহিলা কলেজে সচেতনতামূলক সেমিনার জমি বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, দিনাজপুরে আহত ৫ চার নতুন গবেষণা ইনস্টিটিউট পাচ্ছে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাদীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগে নেত্রকোনায় ‘দুর্ধর্ষ’ মানিক গ্রেপ্তার বরিশালের হাসপাতালগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনিয়মে ক্ষোভ, অনুপস্থিত কর্মচারী ক্লোজড নোয়াখালীতে ফিস্টুলা প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

কচাকাটা থানাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে ত্রাণমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

নাজিমুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম

কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।
রোববার (১০ মে) সরকারি সফরে কুড়িগ্রামে এসে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী। সফরের শুরুতে তিনি কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। পরে জেলা পর্যায়ের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এ সময় কচাকাটা থানাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে কচাকাটা এলাকার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু মন্ত্রীর হাতে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, কচাকাটা একটি প্রাচীন, জনবহুল ও সম্ভাবনাময় অঞ্চল। বর্তমানে এটি থানা হিসেবে প্রশাসিত হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, আয়তন, অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে এটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলার সব যোগ্যতা রাখে।
দুধকুমার, গঙ্গাধর, সংকোষ ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা দ্বারা বেষ্টিত এই অঞ্চলের জেলা সদরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ অত্যন্ত দুরূহ। জেলা সদর থেকে নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী হয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে কচাকাটায় পৌঁছাতে হয়।
বর্তমানে কচাকাটা থানার আওতায় রয়েছে পাঁচটি পূর্ণ ইউনিয়ন—কচাকাটা, বলদিয়া, বল্লভের খাস, কেদার ও নারায়ণপুর। এছাড়া কালীগঞ্জ, বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী ও রায়গঞ্জ ইউনিয়নের অংশবিশেষও এর অন্তর্ভুক্ত। প্রায় ৪ লাখ মানুষের এই এলাকায় কৃষি, শিক্ষা, প্রাণিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম চললেও উপজেলা না থাকায় সেবা পেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এ অঞ্চলে ৪টি কলেজ, ৭৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ১৪টি মাদ্রাসা রয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে রোগীদের ৩০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের হাসপাতালগুলোতে যেতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করছে।
স্থানীয়দের মতে, উপজেলা না থাকায় প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং সামাজিক সমস্যাও বাড়ছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। কচাকাটাকে উপজেলা করা হলে সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ভারতের আসাম রাজ্যের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এ এলাকায় সীমান্ত বাণিজ্যেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তাবিত দুধকুমার সেতু নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং জেলা সদরের সঙ্গে দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এছাড়া প্রস্তাবিত বাংলাদেশ–ভুটান অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে কচাকাটার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুস চঞ্চল ও মিলন জানান, ২০১১ সাল থেকে কচাকাটাকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন, গণসংযোগ ও গণস্বাক্ষরসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, দীর্ঘদিনের জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে কচাকাটাকে উপজেলা করা এখন সময়ের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
এ বিষয়ে কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অর্পণ কুমার দাস বলেন, উপজেলা হলে প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে ও দ্রুত সেবা পাবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।



ফেসবুক কর্নার