
বান্দরবানের দুর্গম রোয়াংছড়ি উপজেলার রৌনিনপাড়ায় পাঁচ বছর বয়সী এক পাহাড়ি শিশুর জটিল চক্ষু চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর দ্রুত উদ্যোগে শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা অনেকটাই কমে এসেছে।
জানা যায়, রৌনিনপাড়ার বাসিন্দা লাল খম লিয়ান বমের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে চোখের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিল। দুর্গম এলাকায় উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না থাকায় এবং আর্থিক সংকটের কারণে শিশুটির চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছিল না। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না পেলে শিশুটি স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারত।
এ অবস্থায় গত ৩ জুন ২০২৬ তারিখে লাল খম লিয়ান বম রৌনিনপাড়া আর্মি ক্যাম্পে আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন। বিষয়টির মানবিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেনাবাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ক্যাম্পের পক্ষ থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে সমন্বয় করে শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
সেনাবাহিনীর সময়োপযোগী সহযোগিতায় শিশুটির চিকিৎসা শুরু হওয়ায় পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সন্তানের সুস্থতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শিশুটির বাবা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় সেনাবাহিনী শুধু নিরাপত্তা রক্ষায় নয়, মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চিকিৎসা, শিক্ষা, ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে সেনাবাহিনী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আস্থা অর্জন করেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রৌনিনপাড়ার এই শিশুর চিকিৎসায় সেনাবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ মানবিক দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।