
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মোটরসাইকেল চুরি উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার চোরদের টার্গেটে পরিণত হয়েছে ধর্মীয় উপাসনালয়ও। এশার নামাজ আদায়ের সময় রৌমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে এক হাফেজের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ জুন) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিট থেকে ৮টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে রৌমারী বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এশার নামাজ আদায় করছিলেন মুসল্লিরা। এ সময় মসজিদ প্রাঙ্গণে রাখা হাফেজ মো. শহিদুল ইসলামের কালো রঙের ডিসকাভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। হাফেজ শহিদুল ইসলাম উপজেলার নটানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, হাসপাতাল, ব্যাংক ও জনবহুল এলাকাগুলোর পর এখন মসজিদ থেকেও মোটরসাইকেল চুরি হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক আতাউর রহমান বলেন, “বর্তমানে রৌমারীতে মোটরসাইকেল রেখে নিশ্চিন্ত থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। অল্প সময়ের অসতর্কতার সুযোগেই চুরি হয়ে যাচ্ছে বাহন।”
আরেক বাসিন্দা শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “ঘন ঘন মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় মনে হচ্ছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি রৌমারী সদর হাসপাতাল এলাকা এবং একটি ব্যাংকের সামন থেকেও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার অধিকাংশেরই এখনো কোনো সুরাহা হয়নি।
রৌমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরমান হোসাইন জানান, মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে। চোর চক্রকে শনাক্ত এবং চুরি হওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এদিকে সচেতন মহল রৌমারী বাজার ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা মোটরসাইকেল বিক্রির তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মোটরসাইকেল চুরি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই চোর চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।