
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে তিশা (৪) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১১ মে ২০২৬) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবার হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে দ্রুত কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে ‘নাপা’ সিরাপ সেবনের পরামর্শ দেন এবং বুকের এক্স-রে (সিএক্সআর) করতে বলেন। পরিবারের দাবি, শিশুটির মাথায় আঘাতের বিষয়টি জানানো হলেও তাকে প্রয়োজনীয় ব্রেইন সিটি স্ক্যান না দিয়ে ভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটির শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও তাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে চিকিৎসক ব্রেইন ইনজুরির কথা উল্লেখ করেন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা প্রশ্ন তুলেছেন—যদি ব্রেইন ইনজুরিই মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে, তাহলে শুরুতেই কেন প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান করানো হয়নি।
ঘটনার পর নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
শোকাহত পরিবারের সদস্যরা বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। এমন অবহেলার কারণে আর কোনো পরিবার যেন সন্তান না হারায়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।