June 4, 2026, 5:20 pm
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি মোরেলগঞ্জে জমি বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, হামলার অভিযোগ সেনাবাহিনীর সহায়তায় দৃষ্টিশক্তি রক্ষার আশায় পাহাড়ি শিশু মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেও মোটরসাইকেল চুরি, রৌমারীতে বাড়ছে বাইক চোর চক্রের তৎপরতা রামপালে হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মা-বাবার প্রতি অবহেলা রোধে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ: চলতি বছরেই চালু হচ্ছে দেশব্যাপী মিড ডে মিল ও স্কুল ড্রেস নওগাঁয় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল স্বপ্নের ঠিকানা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি টিপু নড়াইলে ১৪ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বন্ধ: নীরব কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? প্রশ্নে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা

জরাজীর্ণ মাদ্রাসায় মানবেতর পরিবেশে শিক্ষা নিচ্ছে ১১০ বালিকা শিক্ষার্থী

অভয়নগর প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া (তেঁতুলবাড়ি) এলাকায় অবস্থিত ‘তা’লিমুন নিসা হাফিজিয়া মহিলা মাদ্রাসা’ দীর্ঘ ৪১ বছর ধরে নারী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে গেলেও অবকাঠামোগত সংকটে এখন টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ টিনের বেড়া, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অবহেলার মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে ১১০ জন বালিকা শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে ৩ জন এতিম শিশু রয়েছে, যাদের আশ্রয়স্থলও এই মাদ্রাসা। প্রতি বছর এখান থেকে ৪ থেকে ৭ জন ছাত্রী হাফেজা হিসেবে বের হলেও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার চারপাশ পুরনো ও ভাঙা টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নেই কোনো বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল, ওজুখানা কিংবা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। খোলা পরিবেশে ওজু ও গোসল করতে হয় তাদের। সামান্য বৃষ্টিতেই মাদ্রাসার কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, ফলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার ৩ জন মহিলা শিক্ষক ও একজন পরিচালক সীমিত সামর্থ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানান, দীর্ঘ চার দশক পার হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি অনুদান মেলেনি। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কোনোমতে টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, “এই এতিম ও অসহায় মেয়েদের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একটি টিউবওয়েল, একটি ওজুখানা ও কিছু পাকা অবকাঠামো হলে শিক্ষার্থীদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, উপজেলার অন্যতম প্রাচীন এই মহিলা মাদ্রাসাটি রক্ষায় সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। অন্যথায় ১১০ জন বালিকা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।



ফেসবুক কর্নার