June 4, 2026, 5:19 pm
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ৭৩ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষাবৃত্তি মোরেলগঞ্জে জমি বিরোধ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন, হামলার অভিযোগ সেনাবাহিনীর সহায়তায় দৃষ্টিশক্তি রক্ষার আশায় পাহাড়ি শিশু মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকেও মোটরসাইকেল চুরি, রৌমারীতে বাড়ছে বাইক চোর চক্রের তৎপরতা রামপালে হত্যা মামলায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ মা-বাবার প্রতি অবহেলা রোধে মানিকগঞ্জে মানববন্ধন প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ: চলতি বছরেই চালু হচ্ছে দেশব্যাপী মিড ডে মিল ও স্কুল ড্রেস নওগাঁয় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারাদণ্ড মধ্যরাতের আগুনে পুড়ল স্বপ্নের ঠিকানা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে এমপি টিপু নড়াইলে ১৪ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বন্ধ: নীরব কেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ? প্রশ্নে শিক্ষা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর শেবাচিমে অভিযান, আটক ৮ দালাল

তরিকুল ইসলাম বরিশাল প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের কঠোর নির্দেশনার একদিনের মধ্যেই বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে আটজন দালালকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এবং র‍্যাব-৮ এর সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (স্থানীয় সরকার শাখা) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আহমেদ লুনা। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটজনকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মো. রুমান, মো. রুবেল, ছাবিনা আক্তার নাজমা, লাবনী খানম, সুমি বেগম, মিম আক্তার, আইসা আক্তার ও হাফিজা বেগম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক পাঁচজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা এবং দুইজনকে চার দিন করে কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের মূল ফটক ও অভ্যন্তরে অবস্থান নিয়ে দালালচক্রটি রোগীদের টার্গেট করত। উন্নত চিকিৎসা ও দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে তারা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেত।
অভিযানে আটক কয়েকজন স্বীকার করেছেন, রোগী নিয়ে গেলে তারা কমিশন পেতেন। প্রতিটি রোগীর বিপরীতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হতো বলে জানিয়েছেন তারা।
বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ ছিল। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও পুরোপুরি দৌরাত্ম্য বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, সোমবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে দালালদের তৎপরতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় দালালদের আটক ও সাজা দেওয়া হলেও তাদের সঙ্গে জড়িত কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় দালালচক্র পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে না।



ফেসবুক কর্নার