
এবার ওমানকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে যদি ওমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায়ে সহযোগিতা করে, তাহলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। খবর, মিডল ইস্ট আই’র।
বুধবার (২৭ মে) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা। ওমান অন্যদের মতো আচরণ না করলে, আমাদের তাদের উড়িয়ে দিতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এই হরমুজ প্রণালি। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই পথ দিয়ে হয়ে থাকে। প্রণালির সবচেয়ে সরু অংশ মাত্র ২১ নটিক্যাল মাইল প্রশস্ত। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, ইরান ও ওমান দুই দেশই এই প্রণালির জলসীমার অংশীদার।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, যুদ্ধ বন্ধে কোনো চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর টোল বা সেবা ফি আরোপের অধিকার তাদের থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমান সহযোগিতা করলে বিভিন্ন উপায়ে এই ফি কার্যকর করা সম্ভব।
ওমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল দেশটির।
সম্প্রতি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ বদর বিন হামাদ আলবুসাইদি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলেন, এই যুদ্ধ ইরানের তৈরি নয়। এছাড়া দ্য ইকোনমিস্টে লেখা এক নিবন্ধে তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের পররাষ্ট্রনীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্যে ওয়াশিংটন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েক মাস ধরেই ওমানের অবস্থানে অসন্তুষ্ট।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে ওমানের ভূমিকা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৭৯০ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে পুরোনো সম্পর্কগুলোর একটি। বর্তমানে ওমানের দুকম বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর নিয়মিত প্রবেশাধিকার রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ওমানে ট্রাম্প পরিবারের ব্যাবসায়িক স্বার্থ রয়েছে। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের একটি বিলাসবহুল হোটেল ও গলফ কোর্স প্রকল্প বর্তমানে দেশটিতে নির্মাণাধীন।