
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলা সদরের ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘটিত আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামি মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইঝে (৪৮) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত এখলাস গাজী (৫২) হত্যা মামলায় ৭ জনকে আসামি করে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রামপাল বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন এখলাস গাজী। এ সময় পূর্ব বিরোধের জেরে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। হামলায় গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সোমবার বিকেলে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়ে এখলাস গাজীকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মাসুদ গাজী বলেন, “পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। আমরা বাকি আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
রামপাল থানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে উপজেলার কুমলাই গাববুনিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ শিকদার ওরফে মাইঝেকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।
মোংলা-রামপাল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম বলেন, “হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে রামপালজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।