June 24, 2026, 3:44 pm
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে লোডশেডিং নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর জেলের ছদ্মবেশে অভিযান, নবীনগরে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার রোগীদের ট্রলি সংকট, বালুর বস্তা বহনে ব্যবহৃত হচ্ছে হাসপাতালের ট্রলি খাল খননে জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষি উন্নয়নের প্রত্যাশা: আমডালায় দুই মন্ত্রীর প্রকল্প পরিদর্শন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে ধরা, কুষ্টিয়ায় আটক ৪ মেসির জন্মদিনে বিশ্বজুড়ে শুভেচ্ছার জোয়ার, হিলিতেও ভক্তদের উচ্ছ্বাস ইবির ফোকলোর অ্যান্ড সোস্যাল স্টাডিজ বিভাগের নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যা: নয় মাস পর ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত, দুই আসামি গ্রেপ্তার হরমুজে আটকা ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্ল্যানারি সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ফরিদপুরে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে মাছ নিধন, দূষিত পানিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ

অভয়নগর প্রতিবেদক

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পূর্ব ফুলবাড়ীয়া দোহায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে অবাধে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বাঁওড়ের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন নদীপারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একশ্রেণির অসাধু মাছ শিকারির কারণে জলজ পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে এবং বাঁওড়ের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়ে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দেওয়ালীকান্দা, পূর্ব ফুলবাড়ীয়া, চরবাঙ্গরাইল, রায়েরচর, গুচ্ছগ্রাম, বিষ্ণুদি ও কাকদী এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষ বাঁওড়ের পানির ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্তমানে সেই পানি পান, রান্না কিংবা গোসলের জন্য ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু মোল্লা বলেন, “গ্যাস ট্যাবলেট ব্যবহারের কারণে পুঁটি, শৈল, গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছ মারা যাচ্ছে। আগের মতো মাছও পাওয়া যায় না।”

রোকন মোল্লা জানান, “এই পানি রান্না বা গোসলের কাজে ব্যবহার করা যায় না। শরীরে চুলকানি ও অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।”

হেমায়েত মোল্লা বলেন, “বাঁওড়ের পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সমস্যার মধ্যে আছি। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

সুমন মোল্লার অভিযোগ, “রাত হলেই কিছু লোক এসে বিষ দিয়ে মাছ ধরে। বাধা দিলেও তারা কোনো কথা শোনে না।”

বাচ্চু মোল্লা বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই বাঁওড়ে আর কোনো মাছ অবশিষ্ট থাকবে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু চক্রটি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ এই বিল ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু কিছুদিন ধরে ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে পানি অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

সালথা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।”

এদিকে, স্থানীয়রা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা, বাঁওড় রক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সেখানে একটি মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি জনদুর্ভোগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়বে।



ফেসবুক কর্নার