
দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এ অভিনেত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন নিজের জীবনভিত্তিক কোনো মানসম্মত বায়োপিক নির্মিত হলে ওই সিনেমায় অভিনয়ে আগ্রহী তিনি।
গুণী নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘কুলি’ সিনেমাতে চিত্রনায়ক ওমর সানীর বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ঢাকাই সিনেমায় পা রাখেন পপি। প্রথম সিনেমাতেই তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পপি জানান নিজের বায়োপিক সিনেমায় অভিনয়ে আগ্রহী তিনি। চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় না করলেও নিজের জীবন নিয়ে যদি নিখুঁত ও গবেষণানির্ভর কোনো বায়োপিক তৈরি করা হয় তবে ওই সিনেমায় কাজ করতে চান অভিনেত্রী।
এ প্রসঙ্গে পপি বলেন, ‘স্বামী ও একমাত্র সন্তান আয়াতকে নিয়ে পারিবারিক জীবনেই সময় দিতে চাই। সুখী দাম্পত্য জীবনই এখন আমার প্রধান অগ্রাধিকার। তাই অসংখ্য কাজের অফার পেলেও তা গ্রহণ করার ইচ্ছা নেই। তবে নিজের জীবন নিয়ে যদি নিখুঁত ও গবেষণানির্ভর কোনো বায়োপিক নির্মাণ করা হয় তাহলে ওই সিনেমায় অভিনয় করতে আমার আপত্তি নেই।’
পপি আরও বলেন, ‘দেশে-বিদেশে আমার অসংখ্য ভক্ত রয়েছে। তাই আমার জীবন নিয়ে নির্মিত বায়োপিকের চিত্রনাট্য হতে হবে শক্তিশালী। আমার শৈশব, বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা, ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও চলচ্চিত্র জীবনের নানা অধ্যায় যথাযথভাবে চিত্রনাট্যে তুলে ধরা হলে তবেই আমি কাজটি বিবেচনা করবো।’
নব্বই দশকে প্রথম সারির জনপ্রিয় চিত্রনায়িকাদের একজন পপি। তিনি ২০০৩ সালে কালাম কায়সার পরিচালিত ‘কারাগার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর ক্যারিয়ারে নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ ও সৈয়দ ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড পরিচালিত ‘গঙ্গাযাত্রা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন এ অভিনেত্রী।