
দীর্ঘ ৬৬ দিন পর ঝিনাইদহ শহরের আলোচিত খুশি খাতুন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সম্পূর্ণ ক্লুলেস এ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি ও নিহতের প্রেমিক মো. সাঈদ মেহেদী (২৪)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে ঝিনাইদহ শহরের পাগলাকানাই এলাকার সাদাতিয়া সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে হোটেলকর্মী খুশি খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে মামলার কোনো সূত্র না পাওয়ায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হলেও ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের যৌথ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার খলিশাখালী গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সাঈদ মেহেদীকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাঈদ জানান, নিহত খুশি খাতুনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার রাতে স্বামী পরিচয়ে তিনি খুশির ভাড়া বাসায় অবস্থান করেন। পরে অন্য পুরুষের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ থেকে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তিনি বালিশ চাপা দিয়ে খুশিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর বাসার পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।