
মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কুস্তা খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সেতু এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তিন থেকে চারটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ না থাকায় ভাঙা সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করছেন স্থানীয়রা। কচুরিপানা ও খালের প্রবল স্রোতে সাঁকোটিও দিন দিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘিওর সদর ইউনিয়নের কুস্তা গ্রাম, কুস্তা বন্দর এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ ‘ঘিওর হাট’-এর সংযোগস্থলে সেতুটির অবস্থান। ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের উপজেলা সদর ও হাটে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ১৪-১৫ বছর আগে বর্ষা মৌসুমে ইছামতি নদীর শাখা খালের প্রবল স্রোতে সেতুর অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এরপর আর কোনো সরকারি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে অস্থায়ীভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়। বর্ষায় স্রোত এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশ পচে যাওয়ায় সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বয়োবৃদ্ধ, মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মকবুল মাস্টার বলেন, “একসময় এই সেতু দিয়ে সাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান ও রিকশা চলাচল করত। এখন দেড় দশক ধরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। কেউ সাঁকো থেকে পড়ে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
অপর বাসিন্দা নির্মল বাবু জানান, প্রতিবছর বাঁশের সাঁকো মেরামত করা হলেও কিছুদিন পরই বাঁশ পচে গর্ত তৈরি হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শুকনো মৌসুমে উঁচু সেতু থেকে পড়ে গেলে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানিরও আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সময়ে সেতু পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত একটি টেকসই পাকা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে নতুন সরকার, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।