
বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসকসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে রংপুর সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) আদালতে মহানগর নাগরিক কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুর জব্বার সরকারসহ প্রি-পেইড মিটারের ১৫ জন গ্রাহক মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবাদীরা হলেন—নেসকো রংপুর অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাছাদ্দেক কবির, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক কানিজ ফাতেমা এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ বলেন, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ এবং নষ্ট পোস্ট-পেইড মিটারের পরিবর্তে বাধ্যতামূলকভাবে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কথা বলা হলেও নেসকো সচল পোস্ট-পেইড মিটার খুলে জোরপূর্বক প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সাড়ে ৯ লাখ প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকদের আপত্তি সত্ত্বেও কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকে অবৈধ ঘোষণা চেয়ে এ মামলা করা হয়েছে।
পলাশ কান্তি নাগের অভিযোগ, বিদ্যুৎ একটি সেবামূলক খাত হলেও প্রি-পেইড ব্যবস্থায় গ্রাহকদের আগাম অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রতিবার রিচার্জের সময় মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট কেটে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পোস্ট-পেইড ও প্রি-পেইড মিটারে বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য সমান হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এছাড়া বিদ্যুৎ আইনে সংযোগ বিচ্ছিন্নের আগে অন্তত ১৫ দিনের নোটিশ দেওয়ার বিধান থাকলেও প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মাজাহার আলীসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।