July 22, 2026, 8:44 pm
শিরোনাম :
কুমিল্লা থেকে অপহরণ করে চট্টগ্রাম নিয়ে ধর্ষণ রান্নার পর সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস! এলাকায় চাঞ্চল্য খালেদা জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা দুধ দিয়ে গোসল করে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা যুবকের পদত্যাগ করছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন! জুলকারনাইন সায়েরের পোস্ট আদালতে বিচার চলাকালে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর মাথা ফাটালেন বিচারক রংপুরে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধের দাবিতে নেসকোর ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা ডেভিল হান্ট’ অভিযানে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার শেরপুরে বাঙালি নদীর ভয়াল ভাঙন, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা এরশাদ হত্যা মামলায় আরও এক আসামি গ্রেপ্তার

খালেদা জিয়াকে টেনেহিঁচড়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগে শাস্তির মুখে ৩ নারী পুলিশ কর্মকর্তা

মোঃ ইসমাইল হোসেন

 সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অসদাচরণের অভিযোগসহ বিভিন্ন কারণে পুলিশের তিন নারী অতিরিক্ত ডিআইজির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন শিগগিরই জারি হতে পারে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতির অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রস্তাবের একটি কপি পর্যালোচনা করে জানা যায়, তালিকায় তিনজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপপুলিশ কমিশনার রয়েছেন।
নথিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ, জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানি, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিন নারী কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে সিআইডিতে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি রেবেকা সুলতানা এবং নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার ও বাসা থেকে উচ্ছেদের সময় অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া জেসমিন বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গোপনীয় তথ্য ফাঁসের অভিযোগও করা হয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তার দাবি, পদোন্নতির সময় ঘনিয়ে আসায় একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (হেডকোয়ার্টার্স) হিসেবে কর্মরত ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়ে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাধ্যতামূলক অবসরের প্রস্তাবিত তালিকায় আরও রয়েছেন ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান। এছাড়া অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, ফয়সাল মাহমুদ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন, পুলিশ সুপার আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমানের নামও ওই তালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব অভিযোগ ও প্রস্তাব সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রশাসনিক বা বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি।



ফেসবুক কর্নার