
সাতক্ষীরা-৪ আসনের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে কেন্দ্র করে ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টের আড়ালে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার নামে ভুয়া মন্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এ ধরনের মোট ৪৭টি ভুয়া মন্তব্য শনাক্ত হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানারের তথ্যানুযায়ী, প্রথম ধাপে ৩৬টি এবং পরবর্তীতে আরও ১১টি ভুয়া দাবি শনাক্ত করা হয়। এসব মন্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, ইসলামি বক্তা, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের নামে ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অধিকাংশ ভুয়া বক্তব্যের উৎস ছিল ব্যঙ্গাত্মক (সার্কাজম) ফেসবুক পেজ, যেমন ‘Daily Mollar Desh’, ‘Gupto TV’, ‘Daily Jamaat-er Somoy’, ‘GojobVision’ ও ‘NewsTime TV’। তবে এসব কনটেন্ট পরবর্তীতে কোনো সতর্কীকরণ ছাড়াই বাস্তব বক্তব্য হিসেবে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে।
রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ভুয়া মন্তব্য প্রচার করা হয়েছে গাজী নজরুল ইসলাম ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতুর নামে। এছাড়া ডা. শফিকুর রহমান, মারদিয়া মমতাজ, নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মিজানুর রহমান আজহারী, রফিকুল ইসলাম মাদানিসহ ২৯ জন ব্যক্তির নামে বিভিন্ন ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা মেইল ও মোহনা টিভির লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে মিজানুর রহমান আজহারী ও রফিকুল ইসলাম মাদানির নামে মিথ্যা মন্তব্যও প্রচার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো এসব ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রিউমর স্ক্যানারের মতে, ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্টকে বাস্তব তথ্য হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং যাদের নামে ভুয়া বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, তাদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এমন তথ্য শেয়ার করার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে।