July 28, 2026, 9:11 pm
শিরোনাম :
প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে ভুয়া ভিডিও-ছবির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন শাকিবের সঙ্গে রোমান্সে দ্বিধা বা অস্বস্তি কাজ করেনি: সাবিলা নূর গবেষণায় সয়াবিন তেলে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা বিউটি রানী পালের পাশে দাঁড়ালেন আসিফ আকবর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে আপত্তি, বলিউডে সুযোগ হারানোর গল্প পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নামে প্রচারিত ‘ব্লু ফ্লিমে’ মন্তব্য ভুয়া, সম্পাদিত কালবেলা ফটোকার্ড সেই এমপির বাড়িতে হামলার প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি মায়ের বয়স ১৩ সন্তানের বয়স ৭ সাত মাস

মায়ের বয়স ১৩ সন্তানের বয়স ৭ সাত মাস

মোঃ ইসমাইল হোসেন

মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সাত মাসের সন্তানের মা। ফেসবুকে পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বিয়ে। সংসার জীবনের কিছুদিনের মধ্যেই সন্তানের জন্ম। কিন্তু পরে সেই সন্তানকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে। অবশেষে আদালতের আদেশে আড়াই মাস পর নিজের সাত মাসের ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারক মো. সায়েম খানের আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে তার মায়ের কাছেই রাখার নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের পর দীর্ঘ আড়াই মাস পর সন্তানের কোলে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন জুঁই।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই জুঁই অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়া এবং শাশুড়ি আছমা তাকে বাসা থেকে বের করে দিয়ে সাত মাসের সন্তানকে নিজেদের কাছে রেখে দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা প্রথম নির্ধারিত দিনে উপস্থিত হননি। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করতে চকবাজার থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পুলিশ সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে নিয়ে আসে।
মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হন জুঁই, তার স্বামী শাকিল, শাশুড়ি আছমা এবং শিশুটি। শুনানির সময় বিচারক জুঁইকে জিজ্ঞাসা করেন, শিশুটি তার সন্তান কি না। জুঁই বলেন, “হ্যাঁ, আমার ছেলে।” ছেলেকে ফিরে পেয়ে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেক খুশি।”
এ সময় বিচারক মন্তব্য করেন, প্রথম দিন জুঁই আদালতে এলে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে, এত অল্প বয়সী একটি মেয়ের সন্তান থাকতে পারে। বিচারকের ভাষায়, “সে নিজেও তো একটি শিশু।”
শুনানিতে শাকিল দাবি করেন, জুঁই নিজ ইচ্ছায় তার সঙ্গে চলে এসেছিলেন এবং তারা বিয়ে করেছিলেন। তবে জুঁইয়ের পরিবার অভিযোগ করে, মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় জোরপূর্বক বিয়ে ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
জুঁইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, মেয়েটিকে শুটিং স্পট দেখানোর কথা বলে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাকে আটকে রেখে ব্ল্যাংক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং স্বামীর অধিকার দেখিয়ে বারবার নির্যাতন করা হয়। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সন্তানের জন্মের পর মে মাসে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সন্তানকে আটকে রেখে গার্ডিয়ানশিপের মামলাও করা হয়।
অন্যদিকে শাকিলের আইনজীবী দাবি করেন, জুঁই নিজেই সন্তান রেখে চলে গিয়েছিলেন। তবে বিচারক বলেন, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় আপাতত শিশুটি তার মায়ের কাছেই থাকবে।
শুনানি শেষে আদালত আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন। আদালতের আদেশ পাওয়ার পর জুঁই বিচারকের কাছে নিশ্চিত হতে চান, সন্তান তার কাছেই থাকবে কি না। জবাবে বিচারক বলেন, “হ্যাঁ, তোমার কাছেই থাকবে।”
জুঁইয়ের মা লিমা আক্তার অভিযোগ করেন, তার মেয়ে তখনও স্কুলে পড়াশোনা করছিল এবং বিয়ের উপযুক্ত বয়স হয়নি। তিনি বলেন, “আমার মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ বছর। আমি কখনোই এই বিয়ে মেনে নিইনি।”
অন্যদিকে জুঁইয়ের বাবা জুয়েল খান বলেন, তিনি চেয়েছিলেন মেয়ে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু তার আগেই মেয়েকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করা হয়।
ঘটনাটি আবারও দেশে বাল্যবিবাহ, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের সুরক্ষা এবং শিশু ও মাতৃত্বের অধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আইন অনুযায়ী বাল্যবিবাহ দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও নানা কারণে এখনো এমন ঘটনা ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং পরিবারের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।



ফেসবুক কর্নার