
ঝিনাইদহের আড়াপপুরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহারকারী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি বোঝাই ট্রাক হারিয়েছেন। ঘটনার আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও মালামাল উদ্ধার কিংবা মূল অভিযুক্তদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ব্যাংক ঋণ ও পাওনাদারদের চাপে পরিবার নিয়ে চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।
মামলার তথ্য ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে ঝিনাইদহের আড়াপপুর এলাকা থেকে ৩৭ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি বোঝাই একটি পণ্যবাহী ট্রাক গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে ট্রাকের চালক ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য ছিল। পথিমধ্যে তারা ট্রাকে থাকা ম্যানেজারের হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে নির্জন সড়কের পাশে ফেলে রেখে মালামালসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তদন্তে জানা যায়, চালকের ব্যবহৃত পরিচয়পত্র ও অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।
এ ঘটনায় ফরিদপুরের নগরকান্দা থানায় নিয়মিত মামলা (নং-২১) দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এতে ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন ও তার পরিবার চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ফারুক হোসেন (পিতা: মো. এলেম মন্ডল, সাং- আড়াপপুর) বলেন, “ব্যবসার পেছনে জীবনের সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা মাথায়। আড়াই মাস ধরে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। এমনকি আমার দুই সন্তানের মাদরাসার বেতনও বকেয়া পড়ে আছে। ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো প্রতারক চক্রের সন্ধান পাওয়া সম্ভব হবে।”
ভুক্তভোগী পরিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে।