
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বহু পদ শূন্য থাকায় কোথাও একজন, আবার কোথাও মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। এতে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মনপুরার ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ২৫টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বাকি ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের ৩০টি পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষক সংকটের কারণে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞানসহ একাধিক বিষয় পড়াতে হচ্ছে। কোথাও একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে দেখা গেছে। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক সময় ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলায় সময় কাটাচ্ছে এবং উপস্থিতির হারও কমে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিং ও প্রাইভেট পড়াতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদুর রহমান বলেন, শিক্ষক সংকটের মধ্যেও সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসরাফ জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এখনো বেশ কয়েকটি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করলে সংকট কিছুটা কমবে। এছাড়া দ্রুত শিক্ষক পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষাজীবনের ভিত্তি। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েও পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পদায়নের মাধ্যমে শিশুদের শিক্ষার মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।