March 6, 2026, 6:31 am
শিরোনাম :
জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে

খুলনায় মর্যাদাপূর্ণ আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

Reporter Name

শেখ রাজু আহমেদ
খুলনা
খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস–২০২৫ উদযাপিত হয়েছে। দিনের শুরুতে প্রত্যুষে খুলনার বয়রা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এদিন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং নগরীর প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।
গল্লামারী শহিদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ও মহানগর ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ। এ সময় রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুব রহমান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলার উদ্বোধন করা হয়।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রশাসক মো. মোখতার আহমেদ।
বিজয় দিবস উপলক্ষে খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে দিনব্যাপী মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির সূর্য সন্তান। তাঁদের আত্মত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। খুলনা জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক মো. আবু জাফর এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ সাকিব রায়হানের মা বেগম নুর নাহার। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজয় দিবস উপলক্ষে বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌবাহিনীর জাহাজ সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। রেল, স্টিমার, লঞ্চ ও জাহাজসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। জেলা ও উপজেলা সদরে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, নৌকা বাইচ, ফুটবল, হাডুডু খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এছাড়া শহিদ হাদিস পার্ক, শিববাড়ি মোড়, দৌলতপুর শহিদ মিনার, রূপসা মোড়, গল্লামারী মোড় ও খালিশপুর মোড়সহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে সিনেমা হলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শহিদদের আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
দুপুরে হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, শিশু পরিবার, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র ও পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। একই দিনে নগরীর শিশুপার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হয়। বিকাল সাড়ে তিনটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে কেসিসি বনাম জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন সম্পন্ন হয়।



ফেসবুক কর্নার