March 6, 2026, 8:02 pm
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত কাজিপুরে ভুট্টাক্ষেতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ইবি শিক্ষিকা হত্যা: প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নীলফামারীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে তরুণদের ব্যাপক সাড়া শ্রীমঙ্গল পুলিশের অভিযানে পানি পাম্প ও চোরাই রাবারসহ ৬ জন আটক কুষ্টিয়ায় সরকারি খাস পুকুর থেকে মাটি অবৈধ কেটে বিক্রির ঘটনায় অভিযান ও কারাদণ্ড ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তেজনা: মজনু রহমান ননীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ শেরপুরে তিন তেলের পাম্পে মোবাইল কোর্ট অভিযান, মহাস্থানে আবাসিক বোর্ডিংয়ে পুলিশের অভিযান: নারী ও খদ্দেরসহ আটক ৩

মাত্র ৬ মাসে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ ১১ বছরের মাহমুদ

Reporter Name

মো:মিজানুর রহমান সাগর বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই পুরো ৩০ পারা পবিত্র কোরআন শরীফ মুখস্থ করে হাফেজে কোরআনের মর্যাদা অর্জন করেছে ১১ বছর বয়সী মাহমুদ হাসান। অল্প বয়সে এমন বিরল কীর্তি স্থাপন করে সে এখন বাগেরহাটবাসীর গর্বে পরিণত হয়েছে। বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম বাসাবাটি, দরাটানার ৯ নং ওয়ার্ডের এক শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান মাহমুদ হাসান।বর্তমানে পুরাতন কোর্ট চত্বর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তার পিতা মোঃ মামুন মোল্লা পেশায় একজন দিনমজুর এবং মাতা মোসা মারুফা আক্তার একজন গৃহিণী। তিন ভাইয়ের মধ্যে মাহমুদ হাসান দ্বিতীয়। এর আগে সে বাসাবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। ছোটবেলা থেকেই ইসলামের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে বাবা-মা তাকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তারপর থেকেই শুরু হয় মাহমুদের নিরলস পরিশ্রম। প্রতিদিন প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে কোরআন তিলাওয়াত ও মুখস্থ করায় মগ্ন থাকতো সে।
বাগেরহাট শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মডেল হাফিজিয়া মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক ও ইমাম ও খতিব মাওলানা রুহুল আমিন খান বলেন,মাহমুদ হাসান ছিল অত্যন্ত মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ ও ভদ্র ছাত্র। ছয় মাসে ৩০ পারা মুখস্থ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনাতীত। কিন্তু মাহমুদ তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি, অগাধ মনোযোগ ও আল্লাহর রহমতে সেটা সম্ভব করেছে। সে কখনও পড়াশোনায় অলসতা করেনি, বরং সবার আগে এসে সবার শেষে মাদ্রাসা ছাড়তো। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে সে ইসলামের একজন যোগ্য দাঈ (দাওয়াতদাতা) হিসেবে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে। এছাড়া আমাদের এই মাদ্রাসায় এই প্রথমেই মুখ উজ্জ্বল করলো এই মাহমুদ হাসান এর আগে কখনো এমন প্রতিভাবান ছাত্র আমরা পাইনি আমাদের বুকটা আসলে ভরে গেছে ওর এই কৃতিত্ব দেখে আমরা সব সময় ওরে দোয়া করি যেন বড় আলেম হতে পারে আল্লাহর দাওয়াত দিতে পারে।
শিশু হাফেজ মাহমুদের পিতা মোঃ মামুন মোল্লা বলেন,আমি দিনমজুর মানুষ, প্রতিদিনের আয়ে সংসার চলে। কিন্তু সবসময় চেয়েছি আমার সন্তান যেন আল্লাহর কালাম মুখস্থ করে মানুষ হয়। মাহমুদ আজ হাফেজ হয়েছে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। তার এই সাফল্য আমার কষ্টকে সার্থক করেছে। আমার মৃত্যুর পর যেন আমার ছেলে আমার জানাজাটা পড়াতে পারে এটাই আমার চাওয়া। একদিন তো সবারই মরতে হবে তাই আমার সন্তানকে নিয়ে আমি অনেক গর্বিত যাতে মানুষের কাছে এখন বলতে পারব আমি একজন হাফেজের বাবা আমার আর কোন দুঃখ নেই।
মাতা মোসা মারুফা আক্তার বলেন,ছোটবেলা থেকেই আমার ছেলে নামাজ-রোজায় আগ্রহী ছিল। আমি সবসময় তার জন্য দোয়া করেছি যেন আল্লাহ তাকে কোরআনের আলোয় আলোকিত করেন। ছয় মাসে হাফেজ হওয়া সত্যিই এক অলৌকিক ব্যাপার এটা আল্লাহর অসীম রহমত। বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বলেন,এমন সাফল্য আমাদের সমাজে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। অল্প বয়সে মাহমুদের কোরআন মুখস্থ করার ঘটনা শুধু পরিবারের নয়, পুরো জেলার জন্য গর্বের। আমরা চাই প্রশাসন ও সমাজ এই ধরনের প্রতিভাবান শিশুদের পাশে দাঁড়াক, যাতে তারা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় আরও এগিয়ে যেতে পারে।বাংলাভিশনের সাংবাদিক মোল্লা মাসুদুল হক বলেন,একজন আদর্শবান বাবার ছেলে মাহমুদ হাসান মাত্র ছয় মাসে পুরো কোরআন মুখস্থ করেছে এটা সত্যিই অনুপ্রেরণার গল্প। এমন উদাহরণ দেখলে বোঝা যায়, মেধা ও ইচ্ছাশক্তির জোরে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। মাহমুদ ভবিষ্যতে আল্লাহর দীন প্রচারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী মাহমুদের এ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত ও গর্বিত। তারা বিশ্বাস করেন, এই ছোট্ট হাফেজ ভবিষ্যতে একজন আদর্শ আলেম হয়ে সমাজে ইসলামের আলো ছড়াবে,



ফেসবুক কর্নার