April 23, 2026, 11:53 pm
শিরোনাম :
ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

সিরাজগঞ্জে লুট হওয়া অস্ত্রের বড় অংশ এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরেঃ নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

সিরাজগঞ্জে ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দুটি থানা (সিরাজগঞ্জ সদর ও এনায়েতপুর) থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি । এ নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ (যা ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা) ঘিরে তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে জেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি বড় অংশ দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি। উদ্ধার না হওয়া এসব অস্ত্র এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে এই অবৈধ অস্ত্রগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে নাশকতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানায় ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় দুর্বৃত্তরা থানা থেকে পুলিশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কেবল এনায়েতপুর থানা থেকেই অন্তত ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক হাজারের বেশি রাউন্ড গুলি লুট করা হয়েছিল। পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে পুকুর সেচে এবং পরিত্যক্ত স্থান থেকে কিছু অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও অর্ধেকের বেশি অস্ত্র এখনও সাধারণ মানুষের হাতে রয়ে গেছে।

দীর্ঘদিন পার হলেও সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সিরাজগঞ্জ সদর, এনায়েতপুর ও সলঙ্গা এলাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত নামলেই অনেক এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আনাগোনা এবং অবৈধ অস্ত্রের মহড়া লক্ষ্য করা যায়।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে সহিংসতার ঝুঁকি রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে এই লুট হওয়া অস্ত্রগুলো ব্যবহৃত হতে পারে।

ভোটারদের আতঙ্ক এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিচরণ থাকলে সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে ভয় পাবেন। অপরাধ বৃদ্ধি ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনায় এসব অত্যাধুনিক পুলিশি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও তৎপরতা সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ ও যৌথ বাহিনী অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক মাসে বেশ কিছু অস্ত্র পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যারা সরাসরি লুটের সাথে জড়িত ছিল, তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থাকায় সব অস্ত্র উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমরা অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যেন এই অস্ত্র দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষ সহ এলাকাবাসীর দাবি, ভোটের আগে চিরুনি অভিযান চালিয়ে প্রতিটি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় নির্বাচনের সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। সলঙ্গা এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, “অস্ত্রগুলো যে কাদের কাছে আছে তা আমরা জানি না, কিন্তু এই ভয় নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। ভোটের আগে অস্ত্র উদ্ধার না হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে না।



ফেসবুক কর্নার