March 6, 2026, 2:46 am
শিরোনাম :

মামলা জটিলতায় মোংলায় ‘বিদেশি জাহাজ’ আটক

অভয়নগর প্রতিবেদক

মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় বাগেরহাটের মোংলা বন্দরে পানামা পতাকাবাহী ‘এম ভি এইচটিপি আম্বার’ জাহাজ আটক করা হয়েছে। গত ৮ জানুয়ারি সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’-এর করা ক্ষতিপূরণ মামলায় আদালতের দেওয়া আদেশে জাহাজটি আটক করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে জাহাজ থেকে নিয়মিত পণ্য খালাস হচ্ছে বলে জানায় বন্দরের হারবার বিভাগ। গত ২৭ ডিসেম্বর ৯ হাজার ৬০০ টন সার নিয়ে মোংলা বন্দরে জাহাজটি নোঙর করে।
জাহাজটির বাংলাদেশের শিপিং এজেন্ট কসমস শিপিং লাইন্স লিমিটেডের মহা-ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর ভারতের পারাদ্বীপ বন্দর থেকে ‘এমভি এইচটিপি আম্বার’ জাহাজ ৯ হাজার ৬০০ টন সার বোঝাই করে ২৭ ডিসেম্বর মোংলা বন্দরে আসে। এ জাহাজে সার আমদানি করে যশোরের নওয়াপাড়ার ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’। কিন্তু ওই জাহাজ থেকে সময় মতো তারা পণ্য (সার) খালাস করতে না পারায় জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অ্যাডমিরালটি স্যুট (সামুদ্রিক আইন) ১/২০২৬ আইনে গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে মামলা করেন।’
তিনি বলেন, এ মামলায় গত ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজটি আটক রাখার নির্দেশনা আসে। বর্তমানে বন্দরের বেসক্রিক-৪ নম্বর বয়ায় নোঙর করা জাহাজটি আটক আছে।
সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘খাঁন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং’–এর পরিচালক সোহাগ আহমেদ খাঁন বলেন, ‘গত ২৭ ডিসেম্বর জাহাজটি মোংলা বন্দরে আসার পার তা থেকে সার খালাস শুরু হয়। তবে প্রথম দিনে এক হাজার মেট্রিকটন সার খালাস হওয়ার পরদিন থেকে টানা ১২ দিন সার খালাস বন্ধ করে দেয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ। এতে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’
সোহাগ আহমেদ খাঁন আরও বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠান জাহাজ ভাড়া করে সেটির সঙ্গে (মুরালি ট্রেডিং) এইচ টিপি আম্বার জাহাজ কর্তৃপক্ষের ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেই জটিলতার ভোগান্তি কেন আমরা নেব?’
এদিকে সেই জটিলতার জেরেই জাহাজ কর্তৃপক্ষ তাঁদের (সার আমদানিকারক) পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়। এতে বাজারে সময় মতো সার সরবরাহসহ লাইটার ভাড়া এবং সার খালাসের শ্রমিক নিয়োগে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এ কারণে তারা গত ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে জাহাজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার সব নথিপত্র গত ৯ জানুয়ারি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। বর্তমানে ওই জাহাজ থেকে এখন সার খালাস হচ্ছে বলেও জানান আমদানিকারক সোহাগ আহমেদ খাঁন। তবে ১২ দিন সার খালাস বন্ধ হওয়ার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এরআগে ২০২৩ সালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এমভি পানাগিয়া কানালা জাহাজও উচ্চ আদালতের নির্দেশে আটক ছিল।



ফেসবুক কর্নার