
হাফিজুর রহমান কালীগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনে এতিমখানা পরিচালনার নামে বছরের পর বছর ভুয়া তথ্য, বিল ও ভাউচার দাখিল করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ও সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা দেখিয়ে বরাদ্দের অর্থ তুলে লুটপাট করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে এতিমখানাটিতে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকে ভেতর থেকে তালা ঝুলানো। ভেতরে মাত্র ৫–৭ জন ছেলে খেলা করছিল। বাইরে একটি সাইনবোর্ড ঝুললেও ভবনের কক্ষগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দ্বিতীয় তলায় কয়েকটি বিছানা গুছানো থাকলেও সেখানে কোনো শিক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ককে দেখা যায়নি।
দুপুরের খাবারের জন্য কেনা হয়েছে কাঁচাকলা ও ছোট ছোট পাঙ্গাস মাছ—যা সর্বোচ্চ ৬–৭ জন শিশুর জন্য যথেষ্ট। অথচ সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে, এখানে ৬২ জন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশু অবস্থান করছে।
পাশের একটি মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক মশিউর রহমান জানান, “এখানে যাদের এতিম বলা হচ্ছে, তাদের অনেকের বাবা আছে, কারও মা আছে। বাকি যারা আছে, তাদের হেফজখানা ও মাদ্রাসা থেকে এনে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।”
এছাড়া সামনে অবস্থিত আরেকটি ভবনকে এতিমখানা হিসেবে দেখানো হলেও সেখানে কাউকেই পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬২ জন এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর বিপরীতে নলতা আহছানিয়া মিশন ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে, যা অর্থবছরের জুন পর্যন্ত প্রথম কিস্তির বরাদ্দ। বাকি ছয় মাসের অর্থ এখনো আসেনি, তবে খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল ও ভাউচারের মাধ্যমে এই প্রথম কিস্তির টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ বলেন, তিনি এখনো এতিমখানাটি পরিদর্শন করেননি, তবে খুব শিগগিরই সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন।
এতিমখানায় প্রকৃত এতিম না থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা অল্প কয়েকদিন আগে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।”
একই প্রসঙ্গে নতুন সাধারণ সম্পাদক ডা. নজরুল ইসলাম প্রথমে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে বলেন, “আমরা সদ্য দায়িত্ব নিয়েছি। সার্বিক বিষয় যাচাই করে এর সুরাহা করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আত্মসাৎকৃত সরকারি অর্থ উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।