March 6, 2026, 2:46 am
শিরোনাম :

শহুরের ক্লান্তিতে এক মুঠো প্রশান্তি: দর্শনার্থীদের জন্য ফুলের বাগান

অভয়নগর প্রতিবেদক

ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহরে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে অ্যালার্মের শব্দে আর দিন কাটে ট্রাফিক জ্যামের অসহ্য ক্লান্তিতে। এই একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতে মানুষের মন চায় প্রকৃতির একটু ছোঁয়া। আর সেই ছোঁয়া যদি হয় রঙ-বেরঙের ফুলের, তবে তো কথাই নেই! বাংলাদেশে ইদানীং দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ‘ফ্লাওয়ার ট্যুরিজম’ বা ফুল কেন্দ্রিক পর্যটন বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
চোখের আরাম, মনের খোরাক
একটি সাজানো-গোছানো ফুলের বাগান কেবল মাটির ওপর কিছু গাছের সমাহার নয়, এটি একটি জীবন্ত ক্যানভাস। ঋতুভেদে গাঁদা, সূর্যমুখী, গ্লাডিওলাস, কিংবা হাল আমলের টিউলিপ—ফুলের এই বৈচিত্র্য মানুষের মনের বিষণ্নতা কাটাতে জাদুর মতো কাজ করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, প্রকৃতির সান্নিধ্য, বিশেষ করে ফুলের উজ্জ্বল রঙ মানুষের মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ বা সুখের হরমোন নিঃসরণে সহায়তা করে। তাই ছুটির দিনে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কোনো ফুলের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পর্যটন ও অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত
এক সময় আমরা কেবল যশোর বা সাভারের বাণিজ্যিক নার্সারিগুলোর কথা জানতাম। কিন্তু এখন চিত্র পাল্টেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, যেমন_ধর্মপুর,হরিণ ধরা,দাঁতভাঙ্গা,রৌমারী,কুড়িগ্রামে মোঃ মাহবুবুর রহমান সাজু চার বিঘা জমি ব্যপি গ্লাডিয়েটর জবা গোলাপ গাধা সহ বাহারি রঙের ফুলের পসরা সাজিয়ে রেখেছে দর্শনার্থীদের জন্য আরো গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কিংবা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দর্শনার্থীদের জন্যই গড়ে উঠছে বিশাল সব ফ্লাওয়ার পার্ক। কোথাও দিগন্তজোড়া সূর্যমুখী বাগান, আবার কোথাও বা টিউলিপের রাজ্য।
এই বাগানগুলো ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিও চাঙ্গা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের টিকেট, আশপাশের খাবারের দোকান, এবং যাতায়াত ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে একটি কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। তরুণ উদ্যোক্তারা বুঝতে পেরেছেন, মানুষ এখন শুধু ফুল কিনতেই চায় না, ফুলের সঙ্গে সময় কাটাতেও চায়।



ফেসবুক কর্নার