বেনাপোল দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় বন্দরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকাংশে ফিরে এলেও বহিরাগত কথিত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দিলে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি কাস্টমস, বন্দর ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মনগড়া সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করছে। এতে ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা ও অন্যান্য বন্দরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সুমন হোসাইন নামে এক যুবক, যিনি বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে অবৈধভাবে পাসপোর্ট দালালি, লাগেজ পারাপার এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২–৩ হাজার টাকা আদায় করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত হয় এবং তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। তবে চার্জশিট দাখিলের পরও অভিযুক্ত সুমন হোসাইন গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা ও মামলার পরও সুমন বেনাপোলের বাইরে অবস্থান করে বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন গণমাধ্যমের নাম ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ অবস্থায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জোরালোভাবে দাবি জানানো হয়