April 28, 2026, 3:47 pm
শিরোনাম :
কালবৈশাখী ঝড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ভেঙে পড়ল টাওয়ার লক্ষ্মীপুরে রামগতিতে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে ইউরেনিয়াম লোডিং শুরু, আগস্টে গ্রিডে বিদ্যুৎ মৌলভীবাজারে বাঁধ ভেঙে প্লাবন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও লামায় জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত, র‍্যালি ও আলোচনা সভা নাটোরে নলডাঙ্গায় মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতির ৩২তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত তাড়াশে পুকুর খননে মিলল প্রাচীন নিদর্শন, এলাকায় চাঞ্চল্য হজ পালনে গিয়ে সৌদি আরবে জামালপুরের শিক্ষকের মৃত্যু জান্নাতুল বাকিতে দাফন সম্পন্ন  ধামরাইয়ে বেইলি ব্রিজের বেহাল দশা: দুর্ঘটনায় আহত বৃদ্ধা, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস

মোল্লাহাটে পানের চাষে সমৃদ্ধি, কৃষকের ভাগ্য বদল

অভয়নগর প্রতিবেদক

পান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সালিশ-বিচারে পান-সুপারীর ব্যবহার গ্রামীণ সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী পান উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা।
দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত মিষ্টি পান সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। মোল্লাহাট উপজেলায় প্রাচীনকাল থেকেই পান চাষ হয়ে আসছে। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটেছে। প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে পান চাষের পরিমাণ বাড়ছে।
উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে পান চাষ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া উদয়পুর ও চুনখোলা ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পান উৎপাদন হচ্ছে। গাংনী, কুলিয়া, কোদালিয়া ও গাওলা ইউনিয়নেও দিন দিন পান চাষের বিস্তার ঘটছে।
মোল্লাহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চিতলমারী, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, কালিয়া, তেরখাদা, ফকিরহাট ও নড়াগাতীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পান চাষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
মোল্লাহাট উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী গাঁড়ফা বাজার এ অঞ্চলের পানের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ বাজারে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষিরা পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যাপারীরাও এখান থেকে পান ক্রয় করেন। বাজারের কয়েকজন আরবদার জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়ে থাকে।
পাটগাতী ইউনিয়নের তেরখাদা উপজেলার পান চাষী মোঃ আফজান মোল্লা জানান, বর্তমানে এক কুড়ি পানে ৫ হাজার ২২৮ পিচ গণনা করা হচ্ছে এবং প্রতি পিচ পান ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কয়েকজন পান চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানের বর্তমান বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। তবে সার, বাঁশ, শ্রম ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
কৃষকদের দাবি, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পান চাষ আরও লাভজনক হবে এবং এই ঐতিহ্যবাহী ফসল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।



ফেসবুক কর্নার