March 11, 2026, 6:11 pm
শিরোনাম :
পাবনায় টিআর প্রকল্পে ৩ লাখ টাকার রাস্তাই নেই, অনিয়মের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইরানে হামলা করার মতো ‘আর কিছুই নেই’, যুদ্ধ শেষ শিগগিরই পুরো অঞ্চল পোড়ার আগেই ইরান যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে: এরদোয়ান দোয়ারাবাজারে নিখোঁজ রাজিবের ১৮ মাস পর পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন ভারত থেকে পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল পৌঁছালো পার্বতীপুরে বাংলাদেশ চায় ভোট, সমরাস্ত্র বিক্রিতে জোর দিতে পারে তুরস্ক খাগড়াছড়িতে ঋণের হতাশায় ব্যবসায়ী যুবকের আত্মহত্যা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষি জমি ও ডোবা ভরাটে ৪ ড্রেজার ও ২ হাজার ফুট পাইপ বিনষ্ট, জরিমানা ৪০ হাজার নন্দীগ্রামে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করা সুলতানের পাশে ইউএনও শারমিন আরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের অভিযানে হেরোইনসহ মাদক কারবারি আটক

মোল্লাহাটে পানের চাষে সমৃদ্ধি, কৃষকের ভাগ্য বদল

অভয়নগর প্রতিবেদক

পান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সালিশ-বিচারে পান-সুপারীর ব্যবহার গ্রামীণ সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী পান উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা।
দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত মিষ্টি পান সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। মোল্লাহাট উপজেলায় প্রাচীনকাল থেকেই পান চাষ হয়ে আসছে। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে কৃষকদের আর্থিক অবস্থারও উন্নয়ন ঘটেছে। প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে পান চাষের পরিমাণ বাড়ছে।
উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে পান চাষ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া উদয়পুর ও চুনখোলা ইউনিয়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পান উৎপাদন হচ্ছে। গাংনী, কুলিয়া, কোদালিয়া ও গাওলা ইউনিয়নেও দিন দিন পান চাষের বিস্তার ঘটছে।
মোল্লাহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চিতলমারী, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, কালিয়া, তেরখাদা, ফকিরহাট ও নড়াগাতীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পান চাষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
মোল্লাহাট উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী গাঁড়ফা বাজার এ অঞ্চলের পানের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ বাজারে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে চাষিরা পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যাপারীরাও এখান থেকে পান ক্রয় করেন। বাজারের কয়েকজন আরবদার জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়ে থাকে।
পাটগাতী ইউনিয়নের তেরখাদা উপজেলার পান চাষী মোঃ আফজান মোল্লা জানান, বর্তমানে এক কুড়ি পানে ৫ হাজার ২২৮ পিচ গণনা করা হচ্ছে এবং প্রতি পিচ পান ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কয়েকজন পান চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানের বর্তমান বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। তবে সার, বাঁশ, শ্রম ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
কৃষকদের দাবি, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে পান চাষ আরও লাভজনক হবে এবং এই ঐতিহ্যবাহী ফসল দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।



ফেসবুক কর্নার