
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক দিনের সামরিক মহড়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই মহড়া পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর নাইন্থ এয়ার ফোর্স, যা অ্যাফসেন্ট নামে পরিচিত। আকাশভিত্তিক এই মহড়ার মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে দ্রুত সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
অ্যাফসেন্টের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত বিমান ও জনবল মোতায়েনের সক্ষমতা পরীক্ষা করা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধক্ষমতা বজায় রাখা। পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সংকটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতিও এই মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
মহড়ার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একাধিক জরুরি ঘাঁটিতে ছোট কিন্তু দক্ষ সহায়তাকারী দল মোতায়েন করবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিমান ওঠানামা, রসদ সরবরাহ এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও পরীক্ষা করা হবে। সেন্টকম জানায়, সব কার্যক্রমই স্বাগতিক দেশগুলোর অনুমোদন নিয়ে এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হবে।
এদিকে এই মহড়ার এক দিন আগেই মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সঙ্গে থাকা যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করছে।