
মোঃ ইসমাইল হোসেন।
দেশের শীর্ষ অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর ওয়েবসাইটে হঠাৎ করে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ছেন কোটি দর্শক। আজ দুপুর থেকে বিভিন্ন পোর্টাল একাধিকবার লোড না হওয়া, ওয়েবসাইট স্থবির হয়ে থাকা, সার্ভার টাইমআউট এবং অস্বাভাবিক ধীরগতি—এ ধরনের সমস্যার অভিযোগ ব্যাপকভাবে পাওয়া গেছে। এর ফলে সংবাদ পাঠে মারাত্মক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই ধরনের সামগ্রিক প্রবেশ-জটিলতা সাধারণত দুই কারণে হয়ে থাকে—এক, সার্ভার-সাইড প্রযুক্তিগত সমস্যা; দুই, সমন্বিত সাইবার আক্রমণ। যদিও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে একাধিক গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, দুপুর থেকে তাদের সার্ভারে অস্বাভাবিক চাপ ও একাধিক সন্দেহজনক রিকোয়েস্ট শনাক্ত হয়েছে।
পাঠকদের ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু পাঠক অভিযোগ করেছেন যে, যেকোনো খবর পড়তে গেলে তারা ‘সাইট রিচেবল নয়’ বা ‘সার্ভার রেসপন্স দিচ্ছে না’—এ ধরনের বার্তা পাচ্ছেন। অনেকেই ধারণা করছেন, দেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের কোনো নেটওয়ার্ক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে; কেউ কেউ আবার মনে করছেন, এটি পরিকল্পিত সাইবার হামলা হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গণমাধ্যমগুলো সম্প্রতি যেসব রাজনৈতিক ও দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধান প্রকাশ করছে, সেগুলোকে ঘিরে হামলার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। তারা মনে করছেন, যদি একসঙ্গে একাধিক বড় মিডিয়ার ওয়েবসাইট একই সময়ে অচল হয়ে পড়ে, তাহলে তা সাধারণ ত্রুটির বাইরে গিয়ে বিশেষভাবে তদন্তের দাবি রাখে।
একজন সাইবার বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “সার্ভার কনজেশন হলে সাধারণত কিছু ওয়েবসাইটে সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু একইসঙ্গে অনেকগুলো নিউজ সাইট ডাউন থাকা মানে—এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা DDoS আক্রমণের সম্ভাবনাকে অস্বীকার করা যায় না।”
দায়িত্বশীল সংস্থার জরুরি তদন্ত প্রয়োজন
গণমাধ্যম কর্মীরা বলছেন, সংবাদ পরিবেশনের স্বাভাবিক ধারাকে ব্যাহত করার এই পরিস্থিতি দেশের তথ্যপ্রবাহকে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে। পাঠকের আস্থা ধরে রাখতে এবং ভোগান্তি কমাতে দ্রুত তদন্ত এবং প্রযুক্তিগত সমাধান জরুরি হয়ে উঠেছে।
অনেক মিডিয়া হাউস ইতোমধ্যে তাদের প্রযুক্তি টিমকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছে এবং অস্থায়ী ব্যাকআপ সার্ভারে সাইট স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সাইবার হামলা নাকি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা—এ বিষয়ে সরকারি সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলছে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।