
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে আম গাছে ধরেছে মুকুল। ডালপালা ভরে গেছে হলুদাভ মুকুলে, আর সেই মিষ্টি সুবাসে মৌ মৌ করছে চারপাশ। গ্রামীণ পথঘাট, বসতবাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় কিংবা ফাঁকা জমি—যেদিকেই চোখ যায়, আম গাছের ডালে ডালে এখন মুকুলের সমারোহ।
প্রকৃতির এই রূপে মুগ্ধ স্থানীয়রা। বাতাসে ভেসে আসা মুকুলের ঘ্রাণ পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। মৌমাছিরাও ব্যস্ত মধু সংগ্রহে। সব মিলিয়ে স্বরূপকাঠির গ্রামীণ জনপদে এখন যেন হলুদ আর সবুজের এক অপূর্ব মিলনমেলা।
এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে বড় আকারের আমবাগান না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু কৃষক উদ্যোগ নিয়ে আমচাষ শুরু করেছেন। পাশাপাশি রাস্তার ধারে, বসতবাড়ির চারপাশে ও ছোট বাগানে লাগানো গাছগুলোতেও এবার ভালো মুকুল এসেছে।
উপজেলার দৈহারি ইউনিয়নের আমচাষি মো. মিজানুর রহমান জানান, কয়েক বছর আগে এক বিঘা জমিতে আমচাষ শুরু করেন তিনি। প্রথমদিকে তেমন লাভ না হলেও গত বছর থেকে কিছুটা লাভের মুখ দেখেছেন। এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
অন্যদিকে শাহিনুর রহমান জানান, চার বছর আগে তার ফাঁকা জায়গায় ব্যানানা ম্যাঙ্গো জাতের চারটি চারা রোপণ করেন। এ বছর গাছে আগের চেয়ে বেশি মুকুল এসেছে। তিনি আশা করছেন, ফলনও ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ অঞ্চলে সাধারণত হিমসাগর, গোপালভোগ, আম্রপালি, ল্যাংড়া ও ফজলি জাতের আম চাষ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমে প্রচুর ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
প্রকৃতির এই রঙিন আয়োজন আর সম্ভাবনাময় ফলনের আশায় এখন দিন গুনছেন স্বরূপকাঠির