
রাজধানীর বনানী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত এক সোর্সকে ঘিরে দখল বাণিজ্য, চাঁদাবাজি ও মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মী দাবি করেছেন, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে নানা অনিয়মে জড়িত।
অভিযোগ অনুযায়ী, বনানীর ২ নম্বর রোড, কড়াইল বস্তি, বেদে বস্তি, গোডাউন বস্তি, এরশাদ নগর ও বেলতলা এলাকায় মাদক লেনদেন ও দখল সংক্রান্ত কার্যক্রমে তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা। তিনি নিজেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
গোডাউন বস্তির বাসিন্দা ফারুক (ছদ্মনাম) দাবি করেন, তার কাছ থেকে অর্থ আদায় ও ঘর দখলের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। এ বিষয়ে দলীয় পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এছাড়া অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপন ও ঝিল দখলের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়রা এসব বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বনানী থানা বিএনপির সদস্য আবু জাফর দেওয়ান বলেন, “দলীয় কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভেতরে আলোচনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বনানী থানার সদ্য যোগদান করা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর বলেন, “বনানী থানা এলাকায় অপরাধ, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।